দেশে চাকরির খরা কাটবে না আগামী ১০ বছরেও, জানালো সিটিগ্রুপের রিপোর্ট

লোকসভা নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দাবি করা ৬ কোটি কর্মসংস্থানের বিপরীতে বেকারত্ব নিয়ে উঠে এসেছে প্রশ্ন। সিটিগ্রুপের একটি রিপোর্টে ভারতের কর্মসংস্থানের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে এবং বেকারত্ব সমস্যার সমাধানে বেশ কিছু পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর দাবি বনাম বাস্তবতা:

প্রধানমন্ত্রী মোদী দাবি করেছেন যে তার সরকারের জমানায় গত ৬-৭ বছরে ৬ কোটি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, বেকারত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং মোদীর প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি।সিটিগ্রুপের রিপোর্ট অনুযায়ী, আগামী ১০ বছরে ভারতের যুব প্রজন্মের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারবে না দেশ।রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, নতুন প্রজন্মের প্রত্যেকের জন্য কাজের ব্যবস্থা করতে হলে আগামী এক দশকে ভারতকে প্রতি বছর গড়ে ১.২ কোটি কর্মসংস্থান করতে হবে।

বেকারত্বের হার:

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতের বেকারত্বের হার ৩.২ শতাংশ।সিএমআইই-এর তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে দেশে বেকারত্বের হার ৯.২ শতাংশ ছিল, যা গত আট মাসের মধ্যে সব থেকে বেশি।২০-২৪ বছর বয়সের যুবকদের মধ্যে ৪০ শতাংশের বেশি বেকার।

কর্মসংস্থানের চ্যালেঞ্জ:

কাজের চাহিদা বাড়ছে, কিন্তু কাজের জোগান বাড়ছে না।কৃষিক্ষেত্রে কর্মীর সংখ্যা বেশি, কিন্তু জিডিপিতে অবদান কম।উৎপাদন ক্ষেত্রে নতুন চাকরির সংখ্যা কমছে।সংগঠিত ক্ষেত্রে নিয়োগ কমেছে।স্বনিযুক্ত কর্মীর সংখ্যা বেশি।

সিটিগ্রুপের পরামর্শ:

উৎপাদনক্ষেত্রের রপ্তানি ক্ষমতা শক্তিশালী করা।বিদেশি সংস্থাদের এ দেশে ব্যবসায় আকৃষ্ট করার জন্য ছাড় ও ভাতা প্রদান।১০ লক্ষ সরকারি শূন্যপদ ভর্তি করা।
বিভিন্ন কর্মসংস্থান প্রকল্পকে একত্রিত করা।

ভারতে বেকারত্ব একটি বড় সমস্যা। নতুন প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। সিটিগ্রুপের পরামর্শগুলি বাস্তবায়ন করলে বেকারত্ব সমস্যা সমাধানে সাহায্য হতে পারে।