খলিস্তানি ইস্যুর মধ্যেই মোদি-ট্রুডো সাক্ষাৎ, হাতে হাত রেখে হলো কথা

একদিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, অন্য়দিকে ইসরায়েল-হামাস সংঘাত ৷ এই আবহে ৫০তম জি-৭ সামিটে যোগ দেওয়ার জন্য বৃহস্পতিবার ইতালিতে রওনা হয়েছিলেন বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রনেতা। এবারের জি-৭ সম্মেলনে যোগ দেন পুনর্নির্বাচিত ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও।
সম্মেলনে যোগ দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে দেখেই জড়িয়ে ধরে সৌজন্য বিনিময় করেন মোদি, অন্যদিকে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর হাতে হাত রেখে কথা বলতে দেখা যায় তাকে। শুধু তাই নয় তৃতীয় মেয়াদে আন্তর্জাতিক মঞ্চে শক্তিধর দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরো মজবুত করার লক্ষ্যে সম্মেলনের ফাকেই বিভিন্ন রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সেরে নিয়েছেন তিনি।
গত বছর বিচ্ছিন্নতাবাদী খালিস্তানি নেতা নিজ্জর হত্যা মামলায় কার্যত তলানিতে ঠেকে যায় ভারত-কানাডা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ৷ ভারতের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে দিল্লিতে আয়োজিত জি-২০ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো এলেও দু’দেশের রাষ্ট্রনেতার মধ্যে কোনো বৈঠক হয়নি ৷ তবে এবার আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনে মোদিকে কথা বলতে দেখা যায় ট্রুডোর সঙ্গে। হাতে হাত রেখে সৌজন্য বিনিময় করেন তারা। এবারের লোকসভা নির্বাচনে জয়লাভ করার জন্য মোদীকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী।
কিন্তু শুভেচ্ছাবার্তায় ভারতকে ‘খোঁচা’ দিয়েছিলেন তিনি। তুলেছিলেন মানবাধিকার প্রসঙ্গ। যার উত্তরে ধন্যবাদ জানিয়েও পাল্টা জবাব দিয়েছিলেন মোদিও। মনে করিয়ে দিয়েছিলেন, একযোগে কাজ করতে গেলে পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখা সবার আগে জরুরি।
তবে আগামী দিনে দুদেশের সম্পর্কের উন্নতি ঘটিয়ে একসঙ্গে কাজ করার বার্তা দিয়েছিলেন দুজনেই।
প্রসঙ্গত, খলিস্তানি ইস্যুতে দীর্ঘদিন ধরেই ভারত এবং কানাডার মধ্যে সংঘাত চলছে। গত বছর সেপ্টেম্বর থেকে সেই সংঘাতের মাত্রা আরও বৃদ্ধি পায়। সেইসময় কানাডার প্রধানমন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে খলিস্তানি জঙ্গি হরদীপ সিং নিজ্জরের হত্যার ঘটনায় ভারতীয় এজেন্টের যোগ থাকতে পারে। কোনও প্রমাণ না দিয়েই নিজেদের দেশে ভোটের আগে সেই মন্তব্য করেছিলেন ট্রুডো। যে অভিযোগ প্রথম থেকেই উড়িয়ে দিয়েছে ভারত। বরং নয়াদিল্লি সাফ জানিয়েছে যে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে কানাডায় খলিস্তানিপন্থীদের মদত জোগানো হচ্ছে।