বিশেষ: ২১০ দিন ধরে গড়েছেন পাথরের বাঁশি, বঙ্গ সন্তান অভীকের শিল্পকে স্বীকৃতি দিলো রাজ্য

বাঁকুড়ার শুশুনিয়া গ্রামের এক প্রতিভাবান শিল্পী অভীক কর্মকার। পাথরেই তিনি বাঁশি তৈরি করেছেন, আর সেই বাঁশিতে তিনি সুর তুলছেন। অভীকের এই অসাধারণ কারুশিল্প মাতিয়ে তুলেছে সাধারণ মানুষকে।
শুশুনিয়া গ্রাম বিভিন্ন পাথরের কারুকার্যের জন্য বিখ্যাত। অভীকও দীর্ঘদিন ধরে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পের সাথে যুক্ত। ছোটবেলা থেকেই তার সুরের প্রতি ছিল অনন্য টান।
এই পাথরের বাঁশি তৈরি করতে অভীক সময় নিয়েছেন প্রায় ২১৯ দিন। পাথর খোদাই করার সময় অনেক বাধাও পেরিয়ে যেতে হয়েছে তাকে। কিন্তু হাল ছাড়েননি এই দৃঢ়প্রতিজ্ঞ শিল্পী। অবশেষে তার পরিশ্রম সার্থক হয়েছে। তৈরি করেছেন এক অপূর্ব সুরের যন্ত্র।
অভীকের এই পাথরের বাঁশি তার অসাধারণ কারুকার্য এবং সুরের মিষ্টি মধুরতার জন্য সকলের মন জয় করেছে। পশ্চিমবঙ্গ কারুশিল্প প্রতিযোগিতা ২০২৩-২০২৪-এ এই অসাধারণ শিল্পকর্ম প্রথম স্থান অর্জন করেছে।
পাথরের বাঁশি তৈরির প্রेरणা সম্পর্কে অভীক বলেন, “বাঁশি মানেই কৃষ্ণ। আমি কংসের বধ থেকে শুরু করে শ্রীকৃষ্ণের বিভিন্ন অবতার এই বাঁশিটিতে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি। পাথরের মধ্যেও যে সুর তোলা সম্ভব, সেই ভাবনা একজন **শিল্পীর মনেই আসতে পারে।”
প্রথমে শুধু আবেগ এবং সুরের প্রতি ভালোবাসা থেকেই শুরু করেছিলেন অভীক। অনেক বাধাও পেরিয়ে যেতে হয়েছে তাকে। কিন্তু হাল ছাড়েননি এই প্রতিভাবান শিল্পী। অবশেষে তার অধ্যবসায় এবং কঠোর পরিশ্রমের ফসল এই অসাধারণ পাথরের বাঁশি।
সরকারের পক্ষ থেকে স্বীকৃতি পেয়ে অত্যন্ত আনন্দিত অভীক। তার এই অসাধারণ শিল্পকর্ম আমাদের ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির এক অমূল্য সম্পদ।
অভীক কর্মকারের এই অসাধারণ কাহিনী আমাদের অনুপ্রাণিত করে। তার প্রতিভা এবং কঠোর পরিশ্রম আমাদের শিক্ষা দেয় যে, অধ্যবসায় থাকলে অসম্ভবও সম্ভব।