BigNews: মণিপুরে নতুন করে সহিংসতা, আতঙ্কে গৃহহীন ২০০০ মানুষ

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে সদ্যসমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনের পর নতুন করে মাথাচাড়া দিয়েছে জাতিগত সংঘাত। সহিংসতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা জিরিবাম জেলা থেকে বাস্তুচ্যুত হয়েছে ২ হাজারেরও বেশি মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী রাজ্য আসামের কাছাড় জেলায় উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে নিরাপত্তা বাহিনী।
মণিপুরের জিবিরাম জেলা সংলগ্ন আসামের লখিপুর আসনের বিধায়ক কৌশিক রায় বলেন, প্রায় এক হাজার মানুষ কাছাড়ে আশ্রয় নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জানা গেছে, মণিপুরের সহিংসতা যাতে আসামে না ছড়ায় তা নিশ্চিত করতে ডিসি ও এসপির সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। কাছাড়ের এসপি নুমাল মাহাত্তা জানান, লখিপুরে নিরাপত্তা জোরদার এবং বিশেষ কমান্ডো মোতায়েন করা হয়েছে। জিবিরাম জেলা প্রশাসন জানায়, গত সোমবার পর্যন্ত জিবিরামে স্থাপিত ছয়টি আশ্রয়শিবিরে ৯১৮ জন মানুষ অবস্থান করছিলেন। অনেকে ক্রীড়া কমপ্লেক্স ও স্কুলে আশ্রয় নিচ্ছেন।
সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া অফ টাইমস জানিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের ৩ মে। কুকি ও মেইতেই গোষ্ঠীর মধ্যে জাতিগত সংঘাতকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মণিপুর। একের পর এক হত্যাকাণ্ডের খবর সামনে আসে। ঘরছাড়া হয় অসংখ্য মানুষ। দুই নারীকে বিবস্ত্র করে ঘোরানোর ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর ভারতজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়।
এবার লোকসভা ভোটের পর নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মণিপুর। গত ৬ জুন জিরিবামে এক চাষির শিরশ্ছেদ করা মরদেহ উদ্ধার হয়। সইবাম শরৎকুমার নামে ৫৯ বছরের এই চাষি মেইতেই জনগোষ্ঠীর মানুষ। তার মরদেহ উদ্ধারের পর নিজেদের সুরক্ষায় অস্ত্র ব্যবহারের অধিকারের দাবিতে থানা ঘেরাও করে গ্রামবাসী। এ ঘটনায় অঞ্চলটিতে কারফিউ জারি করে প্রশাসন।
মেইতেই জনগোষ্ঠীর অভিযোগ, কুকিরা ওই চাষিকে হত্যা করেছে। ওই ঘটনার পর কুকি অধ্যুষিত বিভিন্ন গ্রামে হামলার অভিযোগ ওঠে।
এদিকে চলমান সংঘাতের মধ্যেই গত সোমবার মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিংয়ের বহরে হামলা হয়েছে। এদিন রাজ্যের রাজধানী ইমফল থেকে জিরিবামে যাওয়ার সময় তার বহরে হামলা চালানো হয়। এতে এক নিরাপত্তারক্ষী গুরুতর আহত হয়েছেন।