গরমে নষ্ট মিহিদানা-সীতাভোগ, জামাইষষ্ঠীতে মাথায় হাত মিষ্টি ব্যবসায়ীদের

জামাইষষ্ঠী উপলক্ষে মিষ্টির বাজারে উৎসবের আমেজ। কিন্তু প্রখর তাপপ্রবাহ এই উৎসবে বিঘ্ন ডেকে এনেছে। মিষ্টি ব্যবসায়ীরা হতাশায়, কারণ তীব্র গরমের কারণে তৈরি মিষ্টি দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
সীতাভোগ ও মিহিদানা – বর্ধমানের গর্ব:
বর্ধমানের মিষ্টি বলতেই সবার মনে প্রথমে আসে সীতাভোগ ও মিহিদানার নাম। এই দুটি মিষ্টিই ভৌগোলিক নির্দেশিকা (জিআই) স্বীকৃতি পেয়েছে। জামাইষষ্ঠী উপলক্ষে বিভিন্ন আকর্ষণীয় মিষ্টি তৈরি করা হচ্ছে।
কিন্তু নষ্টের আতঙ্ক:
ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, তীব্র গরমের কারণে শো-কেসে সাজিয়ে রাখা মিষ্টি দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অনেকে কিনে নিয়ে গিয়ে নষ্ট বলে ফেরত দিয়ে যাচ্ছেন। এর ফলে ব্যবসায় ক্ষতির পাশাপাশি দোকানের সুনামও নষ্ট হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের কথা:
আলমগঞ্জের মিষ্টি ব্যবসায়ী অমিত দত্ত: “সোমবার তৈরি করা মালাইশাঁস মঙ্গলবার নষ্ট হয়ে গেছে। পুরো ক্ষতি। গরম সর্বনাশ করে দিচ্ছে।”
শহরের নামী মিষ্টির দোকানের কর্মী দেবাদিত্য চক্রবর্তী: “গরমের কারণে সীতাভোগ ও মিহিদানা তৈরির পরিমাণ অর্ধেকেরও কমে গেছে। ক্রেতারা কমে যাচ্ছেন। গুণগত মান বজায় রাখার জন্য বেশি মিষ্টি তৈরি করা যাচ্ছে না।”
তেঁতুলতলা বাজারের মিষ্টি ব্যবসায়ী সুব্রত দত্ত: “আমাদের ছোট দোকান। এসি শো-কেস নয়। ফলে একদিনেই মিষ্টি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। শনিবার প্রায় সাড়ে তিন হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।”
সমাধানের চেষ্টা:
কিছু দোকানে এসি শো-কেস ব্যবহার করা হচ্ছে।দিনে একাধিকবার মিষ্টি তৈরি করা হচ্ছে।কিছু ব্যবসায়ী অনলাইনে মিষ্টি বিক্রি শুরু করেছেন।
তবে এই সমস্যার সমাধানে সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
জামাইষষ্ঠী উপলক্ষে মিষ্টির চাহিদা বৃদ্ধি পায়।বর্ধমানের মিষ্টির বিশেষ খ্যাতি রয়েছে।তীব্র গরমে মিষ্টি ব্যবসায়ীদের বিপুল ক্ষতি হচ্ছে।