“সরিয়ে দিন ‘মোদী কা পরিবার”,-পোষ্ট করে জানালেন নরেন্দ্র মোদী

‘ভাগবত প্রভাব’ কি? গুজরাট দাঙ্গার পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী নরেন্দ্র মোদীকে ‘রাজধর্ম’ মেনে চলার বার্তা দিয়েছিলেন। নমো তখন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী। সেই মোদি টানা তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হয়ে জওহরলাল নেহরুর রেকর্ড স্পর্শ করলেন। কিন্তু গত দুই মেয়াদের মতো এবারও মোদি বা তাঁর দলের পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই, এমন পরিস্থিতিতে সোমবার সঙ্ঘ প্রধান মোহন ভাগবত যা বললেন, তা সরাসরি নমো বা তাঁর দলকে উদ্দেশ্য করে না বললেও অনেকের।

কেন্দ্রে শাসক দলের বিরোধীদের প্রতি কেমন আচরণ করা উচিত, তার একটা বার্তা বলে মনে করা হচ্ছে। পরের দিনই সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ‘মোদি কা পরিবার’ সরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন মোদি নিজেই। মঙ্গলবার নিজের এক্স-হ্যান্ডেলে এ নিয়ে একটি পোস্ট করেছেন দেশবাসীর কাছে। প্রধানমন্ত্রীর এমন ‘নজিরবিহীন বিনয়’ দেখে তার দলের অনেকেই মাথা নাড়ছেন।

প্রশ্ন উঠেছে, সংঘপ্রধান মোহন ভাগবতের বার্তা পেয়েই কি নিজেকে বদলানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী? টানা তিনবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ হাতছাড়া না করলেও, এই লোকসভা নির্বাচনে মোদির ‘মোদি গ্যারান্টি’ নির্বাচনী প্রচারে প্রত্যাশিত সাড়া পায়নি। কেন এমন হল তা নিয়ে বিজেপি এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।

মোহন ভাগবত কারও নাম না করে বলেন, ‘যিনি সত্যিই সেবক হন, যাঁকে প্রকৃত সেবক বলা যেতে পারে, তিনি মর্যাদার সঙ্গে কর্ম করে যান। তাঁর মধ্যে কোনও ঔদ্ধত্য থাকে না। আমি করেছি বলে উনি অহংকারও দেখান না৷ তাঁকেই তো প্রকৃত সেবক বলা যেতে পারে৷’

তাঁর সংযোজন, ‘সবাই মিলে দেশকে চালাতে হবে তো! দু’টো পক্ষ রয়েছে। একটি পক্ষকে বিরোধী পক্ষ বলা হয়, আমি অবশ্য তাঁদের প্রতিদ্বন্দ্বী বলি। তাঁরা বিরোধী নন, তেমনটা ভাবাও উচিত নয়। তাঁরা প্রতিদ্বন্দ্বী, অন্য ভাবনাকে তুলে ধরেন। তাঁদের কথাকেও গুরুত্ব দিতে হবে।’

এদিন নিজের এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, ‘লোকসভা নির্বাচনের প্রচারপর্বে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলে মোদী কা পরিবার লেখেন। যা আমাকে শক্তি জুগিয়েছিল। এ বার আপনারা নিজেদের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল চেঞ্জ করুন। মোদী কা পরিবার সরিয়ে দিন। তবে আপনাদের প্রোফাইল পাল্টে যাওয়ার পরও আমরা একটি পরিবার হিসেবেই দেশের উন্নয়নে কাজ করে যাব।’