বিশেষ: আসন্ন যে যুদ্ধ বদলে দেবে বিশ্ব মানচিত্র, জেনেনিন কি বলছে বিশেষজ্ঞরা?

যুদ্ধ বিশ্বকে বদলে দেয়। তাৎক্ষণিক মানুষ ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি ছাড়িয়ে সমাজ ও রাষ্ট্র, গোষ্ঠী, সংস্কৃতি ও নেতাদের ভাগ্য বদলে দেয়। সম্পদ ও প্রভাবের ব্যবহারের সুযোগের নতুন ধারা তৈরি হয়, নির্ধারণ করে দেয় কার কী আছে– কার কী নেই। এতে এমন রীতি প্রতিষ্ঠিত হয় যার আলোকে ভবিষ্যতের যুদ্ধকে ন্যায্যতা দেওয়া হয়। আর দখল অভিযানের ক্ষেত্রে যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত বিশ্ব মানচিত্র পাল্টে দিতে পারে।
২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি উস্কানি ছাড়া ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণ, গত বছর শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধ বৈশ্বিক সংঘাতকে বাড়িয়ে তুলেছে বহুগুণে। এর মধ্যেই দরজায় কড়া নাড়ছে আরেক যুদ্ধ।
সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, তাইওয়ান উপদ্বীপ দখলকে কেন্দ্র করে চীন যদি কোনো যুদ্ধ শুরু করে তাহলে তার বৈশ্বিক পরিণতি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মতোই ব্যাপক আকার ধারণ করবে। বৃহস্পতিবার এমন মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রদূত কেভিন রুড। এমনকি এ যুদ্ধের ফলে বিশ্ব পুরোপুরি বদলে ভিন্ন রূপধারণ করতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
কেভিন জানান, চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এই মাসে ৭১ বছরে পা দিয়েছেন। তাইওয়ানের সঙ্গে চীনের চূড়ান্ত জাতীয় ঐক্য অর্জন করতে চাইলে তিনি সম্ভবত পরবর্তী দশকে কাজ করবেন। বয়স ৮০ বছর হওয়ার আগেই তিনি সেটা করতে পারেন। এ সময় সাম্প্রতিক মহড়ার ধরনসহ চীনের সামরিক ইঙ্গিত উপেক্ষা করা বোকামি হবে বলে জানান তিনি। বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর চীনের কার্যক্রম নির্ভর করবে।
তাইওয়ানকে নিজের ভূখণ্ড বলে দাবি করে চীন। এই দ্বীপটিকে নিজেদের দখলে নিতে প্রয়োজনে বলপ্রয়োগের হুমকি দিয়ে রেখেছে বেইজিং। তবে তাইওয়ানের ওপর চীনের সার্বভৌমত্বের দাবিতে তীব্র আপত্তি রয়েছে গণতান্ত্রিকভাবে শাসিত দ্বীপটির। তাইওয়ান সরকারের দাবি, শুধু এই দ্বীপের নাগরিকরাই তাদের ভবিষ্যত নির্ধারণ করতে পারবেন।
তাইওয়ানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। তারপরও তাদের প্রধান নিরাপত্তা অংশীদার ওয়াশিংটন। দ্বীপ দেশটিতে সবচেয়ে বেশি অস্ত্র সরবরাহ করে থাকে যুক্তরাষ্ট্র।
দেশটির সাবেক এ অজি প্রধানমন্ত্রী জানান, যুক্তরাষ্ট্রও স্বীকার করেছে যে চীন যদি তাইওয়ান দখলে সফল হয় তাহলে এটি মার্কিন বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর প্রভাব ফেলবে। বিশ্বজুড়ে মার্কিন জোটের ওপর যে নির্ভরতা তার ওপর গভীর ও সম্ভাব্য অপরিবর্তনীয় প্রভাব ফেলবে।
তিনি বলেন, তাইওয়ান ঘিরে ভবিষ্যৎ সামরিক সংঘাত এড়াতে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও তাইওয়ানের অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে। এই যুদ্ধের অর্থনৈতিক খরচ, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রভাব ও অজানা ভূ-কৌশলগত যে পরিণতি হবে তার মাত্রা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে দেখা যায়নি। যুদ্ধে যে দেশই জয়ী হোক না কেন তারপর বিশ্ব পুরোপুরি পাল্টে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।