সংসদ ভবনের সামনে নয়, কোণায় সরল গান্ধী-আম্বেদকরের মূর্তি! নিন্দায় সরব বিরোধীরা

লোকসভা নির্বাচন শেষ, নতুন সরকার, নতুন লোকসভায় শুরু হবে সংসদের নতুন অধিবেশন। তার আগেই সংসদ চত্বরের রূপ বদলেছে। প্রায় ১০০ বছরের পুরনো সংসদ ভবনের পাশে নতুন সংসদ ভবন তৈরি হয়েছে। নতুন ভবনেই এখন লোকসভা, রাজ্যসভার অধিবেশন হয়।

এই নতুন সংসদ ভবন নির্মাণের পর সংসদ কমপ্লেক্সের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য একটি বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংসদ চত্বরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা যাবতীয় মূর্তি সরিয়ে একসাথে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কেন এই পরিবর্তন?

দর্শনার্থীদের সুবিধা: সংসদ কমপ্লেক্সের বিভিন্ন স্থানে অবস্থানের কারণে দর্শনার্থীরা সহজে সব মূর্তি দেখতে পারতেন না। তাই সংসদ ভবন কমপ্লেক্সে একটি বিশাল “প্রেরণা স্থল” তৈরি করা হচ্ছে। এই প্রেরণা স্থলে স্থাপন করা হবে দেশের মহান নেতা ও মুক্তিযোদ্ধাদের মূর্তি।

সংসদের মর্যাদা বৃদ্ধি: সংসদ চত্বরকে আরও জাঁকজমকপূর্ণ ও আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য এই উদ্যোগ।

মহান নেতাদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি: মহাত্মা গান্ধী, বাবাসাহেব আম্বেদকর, ছত্রপতি শিবাজী সহ আরও অনেক মহান নেতার মূর্তি একসাথে রেখে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে।

প্রযুক্তির ব্যবহার:

প্রেরণা স্থলে মহান মুক্তিযোদ্ধাদের জীবন ও অবদান সম্পর্কে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে দর্শনার্থীদের বিস্তারিত তথ্য প্রদানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

বিরোধীদের অভিযোগ:

বিরোধী দলের অভিযোগ, নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহের ইন্ধনে সংসদ ভবনের ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাদের মতে, অহেতুক তাড়াহুড়ো করে মূর্তি সরানো হচ্ছে।

লোকসভা সচিবালয়ের বক্তব্য:

লোকসভা সচিবালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “সংসদ ভবন কমপ্লেক্স থেকে কোনও মহান ব্যক্তির মূর্তি সরানো হয়নি। বরং সেগুলিকে সংসদ ভবন কমপ্লেক্সের ভিতরে সুশৃঙ্খল ও সম্মানজনকভাবে স্থাপন করা হচ্ছে।”

সংসদ চত্বরে নতুন “প্রেরণা স্থল” তৈরির মাধ্যমে মহান নেতাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি সংসদ কমপ্লেক্সের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা হচ্ছে।