“জেলে অত্যাচার বাড়বে, মৃত্যু হলেও আক্ষেপ থাকবে না!”- আত্মসমর্পণের ঘোষণা কেজরির

নির্বাচনে প্রচারের জন্য অরবিন্দ কেজরিওয়াল অন্তর্বর্তী জামিনে তিহার জেল থেকে মুক্তি লাভ করেছেন। তবে সেই মেয়াদ আর কিছুদিনের মধ্যেই শেষ হতে চলেছে। ভোটার ফলাফলের আগে আগামী ২ জুন ফের তাকে করতে হবে আত্মসমর্পন। তাই এবার কেজরিয়াল অন্তর্বর্তী জামিনের মেয়াদ ৭ দিন বাড়ানোর জন্য সুপ্রিমকোর্টের কাছে আবেদন করলেন মুখ্যমন্ত্রী।

গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের ৭ কেজি ওজন কমে গেছে। এমনকি চিকিৎসকরা জানিয়েছে যে আপ প্রধানের শরীরে কেতন লেভেল বৃদ্ধি পেয়েছে।

অপরদিকে AAP সূত্রে জানা যাচ্ছে যে অরবিন্দ কেজরিওয়াল হয়তো গুরুত্বপূর্ণ কোনো জটিল অসুখে ভুগছেন। যার চিকিৎসার প্রয়োজন দ্রুত। আর সেই কারণেই অন্তর্বর্তী জামিনের আবেদন আরও ৭ দিন বাড়িয়ে দেয়ার আবেদন করা হয়েছে সুপ্রিমকোর্টে।

AAP এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে কেজরিওয়ালের PET-CT স্ক্যান করানোর প্রয়োজন। আর সেই পরীক্ষা গুলো করতে হলে চিকিৎসকদের পরামর্শ মতো কমপক্ষে ৭ দিনের প্রয়োজন। আর সেই কারণেই আরও কিছুদিন জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধির জন্যে আবেদন করা হয়েছে সুপ্রিমকোর্টে।

কিন্তু, সেই আবেদনে এখনই শুনানি করতে রাজি হল না দেশের শীর্ষ আদালত। ১ জুন শেষ হচ্ছে তাঁর অন্তর্বর্তী জামিনের মেয়াদ। পরদিনই তাঁকে আত্মসমর্পণ করতে হবে।

জেলে ফেরার ঘোষণা করে দলের কর্মী-সমর্থক এবং দিল্লিবাসীর জন্য আবেগঘন বার্তা দেন কেজরিওয়াল।

অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেন, ‘দিল্লিবাসীকে আশ্বস্ত করে বলছি, আমি জেলে থাকলেও তারা কোনও পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হবে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমার মনোবল ভাঙার চেষ্টা করা হয়েছে জেলের মধ্যে। ২ তারিখের পর তিহাড়ে ফিরে গেলে আরও এমন প্রচেষ্টা চলবে। আমায় মাথা নত করতে চাপ দেওয়া হয়েছে, মুখ বন্ধ করার চেষ্টা হয়েছে কিন্তু, কোনও লাভ হয়নি। জেলে আমায় বহুদিন অত্যাচার করা হয়েছে। আমার ওষুধ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ২০ বছর ধরে আমি ডায়বেটিসের সমস্যায় ভুগছি। গত ১০ বছর ধরে চারবার করে আমায় ইনসুলিন ইনজেকশন নিতে হত। কিন্তু, জেলে ওরা সেটাও বন্ধ করে দিয়েছিল। ৩০০-তে পৌঁছে গিয়েছিল আমার সুগার লেভেল। আমি জানি না এরা কী চায়। ৫০ দিন আমি জেলে বন্দি ছিলাম। এর মধ্যে আমার ছয় কেজি ওজন কমে গিয়েছে। যখন জেলে ভরেছিল ৭০ কেজি ওজন ছিল। যা এখন ৬৪ কেজিতে দাঁড়িয়েছে। জেল থেকে ছাড়া পেয়েও আমার ওজন বাড়েনি। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, এটি কোনও গুরুতর রোগের উপসর্গ হতে পারে। তার জন্য একাধিক পরীক্ষা করার প্রয়োজন রয়েছে।’

কেজরিওয়ালের ঘোষণা, ‘কাল বাদে পরশু আমি আত্মসমর্পণ করব। দুপুর ৩টে নাগাদ বাসভবন থেকে বেরিয়ে আত্মসমর্পণ করতে যাব। আমার আশঙ্কা, এবার ওদের অত্যাচারের পরিমাণ বাড়বে। তবে আমি মাথা নত করব না। আপনারা সকলে নিজেদের খেয়াল রাখুন। জেলে থাকলেও আপনাদের সকলের চিন্তা থাকবে। আপনারা যদি সকলে খুশি থাকেন, জানবেন জেলে আপনাদের মুখ্যমন্ত্রীও ভালো থাকবে। আমি যেখানেই থাকি না কেন, দিল্লির পরিষেবা বন্ধ হবে না। মহল্লা ক্লিনিক, বিনামূল্যে ওষুধ, চিকিৎসা পরিষেবা, বিনামূল্যে বিদ্যুৎ পরিষেবা, মহিলাদের বিনামূল্যে বাস ভ্রমণের সুযোগ, ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পরিষেবা বন্ধ হবে না। আমি ফিরে এসে প্রতি ঘরের মা-বোনেদের মাসিক হাজার টাকা করে দেওয়ার ব্যবস্থা করব।’