পাশে নেই ভারত! জলের হাহাকার মলদ্বীপে, ১৫০০ টন পানীয় জল পাঠালো কোন দেশ?

চীন তিব্বত থেকে মলদ্বীপে ১৫০০ টন পানীয় জল পাঠিয়ে নতুন করে দ্বীপরাষ্ট্রটির উপর প্রভাব বিস্তার করতে চাইছে বলে মনে করা হচ্ছে। এটি মার্চ মাসের পর দ্বিতীয়বারের মতো তিব্বতের হিমবাহ থেকে জল বার করে পাঠানো হচ্ছে। এই পদক্ষেপটি চীন-মলদ্বীপ সম্পর্কের নতুন উচ্চতাকে নির্দেশ করে, বিশেষ করে মোহাম্মদ মুইজ্জু মলদ্বীপের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে।

জলের চালানটি মালেতে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ওয়াং লিক্সিন মলদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুসা জামির কাছে হস্তান্তর করেছেন। মুসা জামির টুইটারে লিখেছেন, “১৫০০ টন জল শিজাং (তিব্বত) স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের জনগণের কাছ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি আমরা।”

এই পদক্ষেপটি সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। অনেকেই মনে করছেন এটি চীনের পক্ষ থেকে নরম শক্তি প্রয়োগের একটি রণনীতি। তিব্বত থেকে জল পাঠিয়ে চীন মলদ্বীপের উপর নির্ভরতা বাড়াতে চায় এবং একই সাথে তিব্বতের উপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণকে বৈধতা দিতে চায়।

তবে, এটাও স্মরণীয় যে ভারতও দীর্ঘদিন ধরে মলদ্বীপকে পানীয় জল সরবরাহ করে আসছে। ২০১৪ সালে মলদ্বীপে তীব্র জল সংকট দেখা দেওয়ার পর ভারত “অপারেশন নীর” এর মাধ্যমে পানীয় জল সরবরাহ করেছিল। এরপরেও আইএনএস দীপক এবং আইএনএস শুক্লায ২০০০ টন পানীয় জল সরবরাহ করেছিল।

চীন-ভারত প্রতিযোগিতা মলদ্বীপে ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। চীন দ্বীপরাষ্ট্রটিতে বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্পে বিনিয়োগ করছে, যা ভারতের কাছে নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই পানীয় জল কূটনীতিও এই প্রতিযোগিতারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।

ভবিষ্যতে দেখা যাবে চীন-ভারত প্রতিযোগিতা মলদ্বীপের উপর কী প্রভাব ফেলে। তবে, এটা স্পষ্ট যে দ্বীপরাষ্ট্রটির উপর প্রভাব বিস্তারের জন্য উভয় দেশই তাদের রণনীতি আরও তীক্ষ্ণ করছে।