মেট্রো ধীরে ধীরে হবে চালকহীন, ট্রেনের কেবিনে শুধুই থাকবে অপারেটর

কলকাতা মেট্রোতে ‘মোটরম্যান’ বা চালকের যুগ শেষ হতে চলেছে। ভবিষ্যতে মেট্রোর সকল রেকের কেবিনে দেখা যাবে ‘ট্রেন অপারেটর’-কে। তাদের কাজ হবে প্ল্যাটফর্মে ট্রেন এসে থামলে বোতাম টিপে দরজা খুলে যাত্রীদের ওঠা-নামায় সাহায্য করা এবং নির্দিষ্ট সময় পর আবার বোতাম টিপে দরজা বন্ধ করা।

কম্পিউটারের উপর ন্যস্ত হবে ট্রেন চালানোর ভার

ট্রেন চালানোর বাকি সব কাজ ‘বুঝে নেওয়ার’ দায়িত্ব নেবে কম্পিউটার। ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোতে শুরু থেকেই চালু রয়েছে কমিউনিকেশন-বেস্‌ড ট্রেন কন্ট্রোল বা সিবিটিসি সিগন্যালিং ব্যবস্থা। এবার শহরের মেট্রো রেলের বাকি সব লাইনেও এই ব্যবস্থা চালু হতে চলেছে বলে জানাচ্ছেন মেট্রো কর্তৃপক্ষ।

যাত্রীদের অভিযোগ

কলকাতা মেট্রোর পরিষেবা নিয়ে যাত্রীদের বেশ কিছু অভিযোগ রয়েছে। ‘মেট্রোতে উপযুক্ত সংখ্যক মোটরম্যান নেই’, ‘শূন্যপদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম ট্রেন চলছে’, ‘একটি মহানগরে এত তাড়াতাড়ি মেট্রো পরিষেবা বন্ধ করা যায় না, অন্তত রাত ১১টা পর্যন্ত মেট্রো চলুক’— এমন সব অভিযোগ শোনা যায় যাত্রীদের মুখে।

পরিবর্তনের আশা

এই অবস্থার পরিবর্তন আনতে পারে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ। মেট্রোর রেক যাতে মোটরম্যানের পরিবর্তে কম্পিউটারের ভরসায় চলতে পারে, সেজন্যই সকল লাইনে চালু করা হচ্ছে সিবিটিসি সিগন্যালিং সিস্টেম। এর মধ্যে রয়েছে ব্লু লাইনও। কবি সুভাষ থেকে দক্ষিণেশ্বর পর্যন্ত বিস্তৃত এই লাইনটিই দেশের প্রাচীনতম মেট্রো রেল লাইন।

ব্যয় এবং সুবিধা

৪০ বছরের পুরোনো এই লাইনে সিবিটিসি সিগন্যালিং সিস্টেম স্থাপনের জন্য খরচ হয়েছে ৫০০ কোটি টাকা। অরেঞ্জ লাইনে এই ব্যবস্থা চালু করতে বরাদ্দ করা হয়েছে ৮০০ কোটি টাকা। মেট্রো কর্তৃপক্ষের দাবি, এই ব্যবস্থায় ট্রেন চালানোয় মোটরম্যানের কোন ভূমিকা থাকে না। আগামী দিনে ট্রেনের কেবিনে শুধু প্রশিক্ষিত ‘ট্রেন অপারেটর’-কেই রাখলেই হবে।