পারমাণবিক অস্ত্রের মহড়া শুরু করেছে রাশিয়া, চাঞ্চল্যকর ভিডিও এলো প্রকাশ্যে

কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র উৎক্ষেপণ প্রস্তুতির অনুকরণে প্রথম পর্যায়ের মহড়া শুরু করেছে রুশ বাহিনী। এই অনুশীলনের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধে পশ্চিমা মিত্রদের সরাসরি জড়িত হওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এর পরই পারমাণবিক অস্ত্রের মহড়া শুরু করার নির্দেশ দেন পুতিন।

পারমাণবিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউক্রেনের যুদ্ধে পশ্চিমাদের বিরত রাখতে পুতিনের সতর্ক সংকেত হিসেবে এই মহড়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ইউক্রেনকে অস্ত্র ও গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে পশ্চিমা দেশগুলো। কিন্তু সেনা পাঠায়নি তারা।

রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মহড়ার প্রথম ধাপে ইস্কান্দার ও কিনজাল ক্ষেপণাস্ত্র ছিল।

রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরো জানিয়েছে, বিভিন্ন ইউনিট ও সরঞ্জামগুলোকে ‘অ-কৌশলগত পারমাণবিক যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত এবং পশ্চিমাদের উসকানিমূলক বিবৃতি ও হুমকির প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়ার আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করা লক্ষ্যেই এই মহড়ার আয়োজন করা হয়েছে।

এই মহড়ায় রাশিয়ার সাউদার্ন মিলিটারি ডিস্ট্রিক্টের ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনী রয়েছে। এটি ইউক্রেনের পাশেই অবস্থিত। শুধু তাই না, এখানে ইউক্রেনের কিছু অংশ রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণেও রয়েছে।

রাশিয়া গত বছর বলেছিল, কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র স্থাপন করছে তারা। সেখানে বেলারুশও থাকবে বলে দুই দেশই জানিয়েছিল।

শত্রুদের প্রতি তাক করা অ-কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্রগুলো কৌশলগত অস্ত্রের চেয়ে কম শক্তিশালী। তবুও তাদের বিশাল ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কিছু পশ্চিমা বিশ্লেষক মনে করেন, ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে অ-কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র রাশিয়ায় গুরুত্ব পেয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধে প্রথম দুই বছরে হিমশিম খেয়েছিল রুশ প্রচলিত বাহিনী।

তাত্ত্বিকভাবে এই ধরনের অস্ত্রের ব্যবহার পশ্চিমাদের একটি ধাক্কা দিতে পারে। পারমাণবিক যুদ্ধ ছাড়াই বিশাল ঝুঁকি হতে পারে।