বন্ধু হারাচ্ছে ইসরায়েল, নানামুখী চাপে এবার নেতানিয়াহু

গাজায় ইসরায়েলি আক্রমণে নিহত হয়েছে ৩৫ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি। নতুন করে রাফাহ শহরে স্থল অভিযানের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার, যেখানে লাখ লাখ ফিলিস্তিনি তাঁবু খাটিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এর পাশাপাশি গাজায় চলছে চরম দুর্ভিক্ষাবস্থা।
এ অবস্থায় এ অবস্থায় বিশ্লেষকরা বলছেন, অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বিশ্বে ইসরায়েলের প্রতি সহানুভূতিশীল মানুষের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে।
গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে যখন ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস অতর্কিত হামলা চালায়, তখনো নেতানিয়াহুর সরকার পশ্চিমা বিশ্বের থেকে খোলাহাতে সমর্থন পেয়েছে। কিন্তু এরপর ইসরায়েল যে নারকীয় বিভীষিকা চালিয়ে যাচ্ছে, তা বিশ্বজনমতকে প্রভাবিত করেছে। এই মুহূর্তে ইসরায়েলি প্রশাসনের রাফা অভিযান পশ্চিমা দুনিয়াসহ সারা বিশ্বেরই উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাড়িঁয়েছে।
জানা গেছে, রাফায় হামলা হলে অনেক মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন চলতি মাসে ইসরায়েলে সাড়ে তিন হাজার বোমা পাঠানো স্থগিত করেছেন। এরপরও ইসরায়েল মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র তাদের পাশে রয়েছে। যদিও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। গাজা ইস্যুতে ক্রমেই একঘরে হয়ে পড়ছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। চলমান পরিস্থিতিতে পরম মিত্র যুক্তরাষ্ট্র পাশে থাকলেও ইউরোপে পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে যাচ্ছে ইসরায়েলের। নেতানিয়াহুর পশ্চিমা বন্ধুরা এখন তার টুঁটি চেপে ধরেছেন।
সারা দুনিয়া একদিকে আর নেতানিয়াহু একদিকে। কারো কথা গায়েই মাখছেন না তিনি। গাজায় নিরপরাধ নারী ও শিশুসহ প্রায় ৩৫ হাজারের বেশি মানুষকে হত্যার কুশীলব নেতানিয়াহুকে, কেউই যেন থামাতে পারছে না। তবে বিশ্বজুড়ে চাপ বাড়ছে নেতানিয়াহুর ওপর। ঘরের ভেতরও জ্বলছে বিক্ষোভের আগুন। এবার সম্ভবত সবচেয়ে বড় ধাক্কাটাই খেতে যাচ্ছেন নেতানিয়াহু।
সম্প্রতি গাজার দক্ষিণের শহর রাফায় বড় ধরনের হামলা বন্ধ করতে একটি চিঠিতে স্বাক্ষর করে ইসরায়েলকে সতর্ক করেছেন তারই মিত্র ১৩টি দেশ। এছাড়া অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে অবাধ মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর অনুমতি দিতেও ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে সেই চিঠিতে। তাই মনে করা হচ্ছে, এবার ভালোই চাপে পড়বেন নেতানিয়াহু।
শুক্রবার (১৭ মে) রাতে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, জি-৭ দেশগুলো কানাডা, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, জাপান এবং যুক্তরাজ্যের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া এবং সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেন। এসব দেশের অধিকাংশের কাছ থেকেই অস্ত্র আমদানি করে ইসরায়েল।
ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরাএল কাটজকে পাঠানো ওই চিঠিতে পশ্চিমা মিত্ররা জানায়, আমরা রাফায় পূর্ণ মাত্রার সামরিক অভিযানের বিরোধিতা পুনর্ব্যক্ত করছি, যা বেসামরিক জনগণের ওপর বিপর্যয়কর পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
এই ১৩ দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের পক্ষ থেকে গাজায় ত্রাণ সরবরাহ–সুবিধা উন্নত করতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মন্ত্রিসভার সাম্প্রতিক পদক্ষেপের প্রশংসা করা হয়। তবে একই সঙ্গে আরো পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, ইসরায়েল সরকারের কাছে দেওয়া পশ্চিমা দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের চিঠিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েলকে অবশ্যই গাজায় আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলতে হবে এবং সেখানে বিধ্বংসী মানবিক সংকট মোকাবিলার উপায় রাখতে হবে। চিঠিতে জি-৭ ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া বাকি সব দেশ রয়েছে।