“রাহুলকে আশীর্বাদ করুন”-রায়বেরিলির মানুষের কাছে আবেদন করলেন সোনিয়া

২০২৪ এ লোকসভা নির্বাচনে সরগরম দেশের রাজনীতি। বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারা বিভিন্ন সভা ও মঞ্চে দিচ্ছেন তাদের ভাষণ।আবার কোথায়ও কোথাও চলছে একে অপরের বিরুদ্ধে কথার লড়াই। আবার কোথাও চলছে সরকারি সুবিধা ও অসুবিধা পাওয়া -না পাওয়ার বিষয়ে চর্চা।

আর এবার ৪৬ ডিগ্রি তাপমাত্রায় ভরা মঞ্চে উঠে সোনিয়া গান্ধী রায় বেরেলির জনসভায় সকলের উদ্যেশে দিলেন বার্তা।

শুরু করলেন নিজের কথা – “আমার প্রিয় ভাইবোনেরা৷ আমি আমার নিজের ছেলেকে আপনাদের হাতে তুলে দিলাম৷ আপনারা আমাকে যেমন নিজের করে নিয়েছিলেন, আগলে রেখেছিলেন, তেমন ভাবেই রাহুলকে আগলে রাখবেন, নিজের করে রাখবেন, আশীর্বাদ করবেন৷ আমি কথা দিচ্ছি, রাহুল আপনাদের নিরাশ করবে না৷”

তিনি বলেন, ‘রায়বরেলি আমার পরিবার৷ মা গঙ্গার মতোই পবিত্র আমাদের সম্পর্ক৷ এখানকার মানুষের আশীর্বাদে আমার আঁচল ভরে আছে৷ আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতায় আমার মাথা সর্বদা নত হয়ে থাকবে৷’

‘এখানকার মানুষের থেকে আমি যা শিখেছি, সেই শিক্ষাই আমি দিয়েছি রাহুল ও প্রিয়াঙ্কাকে৷ ইন্দিরাজি বলতেন সবার পাশে থাকতে, দুর্বলদের জন্য লড়াই করতে, ভয় পেলে চলবে না৷ আমি আমার ছেলেমেয়েকে বারবার একই কথা বলেছি৷ ২০ বছর ধরে আমি আপনাদের সেবা করার সুযোগ পেয়েছি৷ আপনারা আমাকে সব সময়ে আশীর্বাদ করেছেন৷ সে জন্য আমি সারাজীবন কৃতজ্ঞ থাকব৷ আমার প্রার্থনা আপনারা একই ভাবে রাহুলকে আশীর্বাদ করুন৷’

মাত্র ৪০ সেকেন্ড৷ একটা অনুচ্ছেদ৷ শুক্রবার সেই অনুচ্ছেদেই রায়বরেলিবাসীর হৃদয়ে উত্তরাধিকার প্রতিষ্ঠা করে দিলেন সনিয়া গান্ধী৷

এই চাপ যে কতটা তার আঁচ মিলেছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কথায়। রায়বরেলিতেই শাহ সরাসরি গান্ধী পরিবারকে নিশানা করে তোপ দেগেছেন ‘পরিবারবাদের’ ইস্যুকে হাতিয়ার করে৷

জনসভায় অমিত শাহ বলেন “‘রায়বরেলি আসন কারও পৈতৃক সম্পত্তি নয়৷ এখানকার মানুষ যাঁকে সংসদে পাঠাতে চাইবেন তিনিই যাবেন লোকসভায়৷ এখানে মানুষের রায়ই শেষ কথা৷”

তাঁর সংযোজন, ‘আমি আজ রাহুলবাবাকে বলতে চাই, আপনি ভয় পেলে পেতে পারেন, আমরা পাচ্ছি না৷ পাক অধিকৃত কাশ্মীর ভারতেরই অংশ, আমরা এটা ফেরত নেবই৷’