“হিন্দু-মুসলিম ভেদাভেদ করলে সমাজে বেঁচে থাকার যোগ্য থাকব না”-দেশবাসীকে বড় বার্তা মোদির

২০২৪ এ লোকসভা নির্বাচনে সরগরম দেশের রাজনীতি। বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারা বিভিন্ন সভা ও মঞ্চে দিচ্ছেন তাদের ভাষণ।আবার কোথায়ও কোথাও চলছে একে অপরের বিরুদ্ধে কথার লড়াই। আবার কোথাও চলছে সরকারি সুবিধা ও অসুবিধা পাওয়া -না পাওয়ার বিষয়ে চর্চা।
আর এবার প্রধানমন্ত্রী মোদী হিন্দু -মুসলিম ধর্মীয় মেরুকরণ প্রসঙ্গে স্পষ্ট বার্তা দিলেন দেশবাসীকে।
বারাণসী কেন্দ্র থেকে মনোনয়ন জমা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আর তারপরই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, ‘আমি যেদিন হিন্দু-মুসলিম ভেদাভেদ করব সেদিন থেকে আর এ সমাজে বেঁচে থাকার যোগ্য থাকব না। এটি আমার সংকল্প। আমি হিন্দু-মুসলিম ভেদাভেদ করব না।’
উল্লেখ্য, সম্প্রতি মোদির রাজস্থানের বাঁশওয়ারাতে একটি নির্বাচনী সভার ভাষণ শোরগোল ফেলে দিয়েছিলো গোটা দেশে। সেখানে মোদী বলেছিলেন,’আগে যখন ওদের সরকার ছিল, ওরা বলেছিল, দেশের সম্পত্তিতে প্রথম অধিকার মুসলিমদের। অর্থাৎ আপনাদের সম্পত্তি ছিনিয়ে কাকে বিলিয়ে দেওয়া হবে? যাদের অনেক সন্তান, যারা অনুপ্রবেশকারী তাদের মধ্যে বিলিয়ে দেওয়া হবে। আপনার কষ্টার্জিত অর্থ কি অনুপ্রবেশকারীদের হাতে চলে যাওয়া উচিত? মেনে নিতে পারবেন তো তা?’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘কংগ্রেসের ইস্তেহার বলছে তারা ঘরের মা-বোনেদের গয়না নিয়ে নেবে। মনমোহন সিংয়ের সরকার বলেছিল, দেশের সম্পত্তিতে প্রথম অধিকার মুসলিমদের। অর্থাৎ এই গয়না তাদের মধ্যে বিলিয়ে দেওয়া হবে। ভাইবোনেরা, এই আর্বান নকশাল চিন্তাধারা এখানে চলবে না। এমনকী, বিবাহিতাদের গলার মঙ্গলসূত্রও ছিনিয়ে নিতে চাইছে এরা।’
তিনি মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমে দেওয়া একটি ইন্টারভিউতে বলেন, ‘আমি হিন্দু কিংবা মুসলিম নিয়ে কোনও মন্তব্য করিনি। আমি বলেছি, যত খুশি সন্তান ধারণ করতে পারেন। কিন্তু, নিজেরা যদি তাদের লালনপালন করতে না পারেন, তবে ভেবে দেখুন। এমন পরিস্থিতি তৈরি করবেন না যাতে সরকারকে সাহায্য করতে হয়।’
নরেন্দ্র মোদী বলেন, ‘আমি জানি আমার দেশের মানুষ আমায় ভোট দেবে। যেদিন হিন্দু, মুসলিম ভেদাভেদ করব, সেদিন থেকে আর সামাজিকভাবে বেঁচে থাকার যোগ্য থাকব না। আমি হিন্দু-মুসলিম ভেদাভেদ করব না। এটাই আমার সংকল্প।’
নরেন্দ্র মোদী আরও বলেন, ‘আমি কোনও গ্রামে ২০০টি বাড়ি তৈরি করে দিই এবং সেখানে ৬০ জন উপভোক্তা থাকে, তবে নিশ্চিত করব যাতে সমস্ত উপভোক্তা সেই পরিষেবা পায়। সেখানে কোনও ধর্ম, জাতি দেখা হবে না। এটাই নিরপেক্ষতা। এটাই ন্যায়। এতে কোনও দুর্নীতিও থাকবে না।’