বিশেষ: টানা ৫ বছর ধরে মেধাতালিকায় ঠাঁই, কোন জাদুতে H.S এ সফল সুনীতি অ্যাকাডেমি?

“ফর্ম ইজ টেমপোরারি, ক্লাস ইজ পার্মানেন্ট” – ক্রিকেটের বিখ্যাত এই উক্তিটি শুধু মাঠের খেলার জন্যই সীমাবদ্ধ নয়। বরং, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই সাফল্য ধরে রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে। এই ধারাবাহিক সাফল্যের প্রমাণ হল কোচবিহারের সুনীতি অ্যাকাডেমি।
বছরের পর বছর ধরে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অসাধারণ ফলাফল অর্জন করে আসছে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। প্রতীচি রায় তালুকদার রাজ্যে মেয়েদের মধ্যে প্রথম এবং মোট চতুর্থ স্থান অর্জন করেছেন, এবং মনস্বী চন্দ ষষ্ঠ স্থান অধিকার করেছেন। এই অসাধারণ সাফল্যে আনন্দিত স্কুলের শিক্ষক, কর্মী, অভিভাবক এবং শহরবাসী।
১৮৮১ সালে মহারানী সুনীতি দেবীর নামে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টি কোচবিহারের চারটি সরকারি স্কুলের মধ্যে অন্যতম। বিশেষ করে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় মেয়েদের ক্ষেত্রে এই স্কুলের খ্যাতি অনস্বীকার্য।
২০১৯ সাল থেকে শুরু এই ধারাবাহিক সাফল্যের গল্প। ২০১৯ সালে দুই ছাত্রী মেধাতালিকায় জায়গা করে নেওয়ার পর ২০২০ সালে সঞ্জিবনী দেবনাথ শীর্ষস্থানে আরোহণ করেন। ২০২২ সালে পূর্বালী দাস পঞ্চম স্থান অর্জন করেন এবং গত বছর স্বাগতা চক্রবর্তী দশম স্থানে আসেন।
এই বছর প্রতীচি এবং মনস্বীর সাফল্য সুনীতি অ্যাকাডেমির ধারাবাহিক সাফল্যের প্রমাণ। বিজ্ঞান বিভাগে ৪৯৩ নম্বর পেয়ে প্রতীচি চতুর্থ স্থান অর্জন করলেও, মাধ্যমিকে মেধাতালিকায় জায়গা না পেয়ে কিছুটা হতাশ ছিলেন। তবে, নিয়মিত পরিশ্রম এবং স্কুলের শিক্ষিকাদের সহায়তায় উচ্চ মাধ্যমিকে তার সাফল্য অসামান্য।
কলা বিভাগে ৪৯১ নম্বর পেয়ে মনস্বীও তার প্রতিভা প্রমাণ করেছেন। ছোটবেলা থেকেই এই স্কুলে পড়াশোনা করা এই দুই ছাত্রী তাদের সাফল্যের জন্য শিক্ষিকাদের কৃতজ্ঞ।
টানা পাঁচ বছর ধরে উচ্চমাধ্যমিকে অসাধারণ ফলাফল অর্জনের মাধ্যমে কোচবিহার সুনীতি অ্যাকাডেমি শুধু শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের জন্যই নয়, বরং শিক্ষার প্রতি তাদের অঙ্গীকার ও দায়িত্ববোধেরও পরিচয় দিয়েছে।