শখ ছিল কুকুর পোষা, নিজের আদরের পোষা কুকুরই ছিঁড়ে খেলো বৃদ্ধাকে

পোষা কুকুরকে নিয়ে সবারই একটা ভাললাগার জায়গা থাকে। কিন্তু সেই পোষা কুকুর যখন স্নেহের পরশকেই লোভাতুর দৃষ্টিতে দেখে তখন তো প্রকৃতির কাছে আরও করুণভাবে অসহায় হয়ে পড়ে মানুষ। জৈবিক কারণে প্রিয় প্রভুকেই ছিঁড়ে খায় সে। না কোনও নীতিবাক্য নয়, এমনটাই ঘটেছ উত্তর প্রদেশ রাজ্যের রাজধানী লখনউয়ে।

জানা গেছে, সুশীলা ত্রিপাঠী নামের অশীতিপর ওই নারীর ছেলে একটি জিমে ট্রেনারের কাজ করেন। তার খুব কুকুরের শখ। আর তাই একটি ল্যাব্রাডর ও একটি পিটবুল কুকুর পুষেছিলেন। ব্রাউনি নামের ওই কুকুরকে অন্য কুকুরটির মতোই ভালবাসতেন সুশীলা। রোজ হাঁটাতে নিয়ে যেতেন। ঘটনার দিনও তিনি ওদের নিয়ে হাঁটতে বেরোচ্ছিলেন। কিন্তু তখনই আচমকা ব্রাউনি ঝাঁপিয়ে পড়ে তাঁর ওপরে। আর একের পর এক কামড় বসাতে থাকে।

অসহায় পরিস্থিতিতে সুশীলা চিৎকার করলেও প্রথমে কেউই এগিয়ে আসেনি। কিছুক্ষণ পরে বাড়ির কাজের লোক টের পেলে তিনি দ্রুত সেখানে পৌঁছেন। ততক্ষণে রক্তে মাখামাখি হয়ে গেছে বৃদ্ধা। কাজের লোকের ফোনে খবর পেয়ে বাড়ি এসে মাকে হাসপাতালে নিয়ে যান তার ছেলে। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

ময়নাতদন্তের পর দেখা গেছে ওই্ নারীর শরীরে ১২ জায়গায় গভীর ক্ষত রয়েছে। হাত, পা, পেট, পিঠ সর্বত্র রয়েছে কামড়ানোর চিহ্ন। এর মধ্যে মাথাতেও রয়েছে একটি গভীর ক্ষত। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, ক্ষতচিহ্নগুলি পরীক্ষা করে বোঝা যাচ্ছে যত কুকুরটির হাত থেকে বাঁচার চেষ্টা করেছিলেন ওই বৃদ্ধা ততই বেশি করে তাঁকে আক্রমণ করেছিল ব্রাউনি। পরে অবশ্য বৃদ্ধার ছেলেকে দেখে সে শান্ত হয়েই তার দিকে এগিয়ে আসে। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে, তিন বছরের পোষ্য কুকুরটি এমন হিংস্র হয়ে উঠল কী করে

আসলে পিটবুল কুকুরকে নিয়ে এমন অভিযোগ নতুন নয়। যদিও কুকুরটি ভারতে নিষিদ্ধ নয়। তবুও বলা হয়, এ প্রজাতির কুকুর পোষার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে। কেননা পিটবুল অনেক সময়ই মানুষকে আক্রমণ করে। মালিককেও কামড়ে দেয় তারা। লখনউয়ের ঘটনা পিটবুলের হিংস্র আচরণের আরেক নিদর্শন হয়ে রইল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *