নেতানিয়াহুকে যেভাবে বাঁচিয়ে দিলো ইরান, জেনেনিন কি বলছে বিশেষজ্ঞরা?

সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে তেহরানের কূটনৈতিক মিশনে ইসরায়েলের হামলায় ইরানের বিপ্লবী গার্ডের একজন জেনারেলসহ সাত সদস্য এবং ছয় সিরীয় নাগরিক নিহত হয়। এই হামলার প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে গত শনিবার রাতে প্রায় পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী নজিরবিহীন আক্রমণ চালায় ইরান।
আক্রমণে ৩৫০টিরও বেশি প্রজেক্টাইল ব্যবহৃত হয় যার মধ্যে প্রায় ১৭০টি ড্রোন এবং ১২০টিরও বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছিল। এগুলোর মধ্যে কোন কোনটি ইসরায়েলের সামরিক বিমানবন্দরসহ কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়।
তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা জোটের সহায়তায় ইরানের ৯৯ শতাংশ হামলা আকাশেই সফলভাবে ধ্বংস করা হয়েছে।
হামলার বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে, জাতিসংঘে ইরানি মিশন হুঁশিয়ারি দিয়েছে, ইসরায়েল যদি ইরানি হামলার পর প্রতিশোধ নেয় তবে তারা আরো শক্তিশালী এবং দৃঢ় পদক্ষেপের মাধ্যমে পাল্টা জবাব দেবে।
প্রকৃতপক্ষে এই হামলাটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য ভীষন প্রয়োজন ছিল। গত কয়েক মাস ধরে, গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যার প্রতি অন্ধ সমর্থনের কারণে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনার শিকার হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এটি সহ্য করা খুবই কষ্টসাধ্য হয়ে ওঠে। ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন এবং এর যুদ্ধাপরাধকে ন্যায্যতা অব্যাহত রাখতে একটি নতুন অজুহাত খুঁজে ফিরছিল যুক্তরাষ্ট্র।
গাজায় চলমান গণহত্যার মতো অপরাধ লুকাতে এবং বিশ্ববাসীর মনোযোগ ভিন্ন দিকে নিয়ে যেতে ইরানের হামলা পরোক্ষভাবে উপকারে এসেছে তেল আবিবের। সেই সঙ্গে আরব দেশগুলোকে মনে করিয়ে দিয়েছে যে ইসরায়েলই নয় তাদের প্রচ্ছন্ন শত্রু হচ্ছে ইরান। তেহরানের বড় ধরনের সামরিক শক্তি যেকোন আরব রাষ্ট্রকেও অস্তিত্ব সংকটে ফেলে দিতে পারে।
একইভাবে, তেল আবিব আন্তর্জাতিকভাবে বিশেষ করে মিত্র পশ্চিমাদের সহানুভূতি ফিরে পেতে শুরু করছে এবং পশ্চিমা দেশগুলো থেকে ফের অস্ত্র পাওয়ার নিশ্চয়তা পেতে শুরু করেছে।
ব্যক্তিগত পর্যায়ে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এই হামলার বিকল্প ছিল না। গাজা যুদ্ধ পরিচালনার চরম ব্যর্থতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে তার জনপ্রিয়তা তলানিতে ঠেকেছে। তিনি আশা করেছেন, ইসরায়েল নতুন ‘হুমকির’ মুখোমুখি হয়েছে এতে করে তার ক্ষমতাচ্যুতির দাবিতে যে আন্দোলন চলছিল তা স্তমিত হয়ে যাবে।
ইরানের হামলার পর, নেতানিয়াহুর সঙ্গে একটি ফোনালাপে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য আমেরিকার প্রতিশ্রুতি ফের জানিয়েছেন।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষার প্রতি সমর্থন দিতে, মার্কিন সামরিক বাহিনী গত সপ্তাহে এই অঞ্চলে বিমান এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার স্থানান্তর শুরু করে।
সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর