শেখ শাজাহান থেকে অনুব্রত, দুর্নীতির টাকা সরাতে একই ফর্মূলা অভিযুক্তদের, জেনেনিন কি?

রাজ্যের বিভিন্ন দুর্নীতির মামলায় দেখা যাচ্ছে, অভিযুক্তরা তাদের অর্থায়নের উৎস লুকাতে তাদের স্ত্রী, মেয়ে, জামাইদের নাম ব্যবহার করছেন। এই প্রবণতা কয়লা-গোরু পাচার, রেশন দুর্নীতি, এবং শিক্ষা নিয়োগের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে।
সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া শেখ শাহজাহানের ক্ষেত্রে:
সন্দেশখালিতে ভেড়ি এবং জমি দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া শেখ শাহজাহানের বিরুদ্ধে ইডি অভিযোগ এনেছে।তার মেয়ের নামে মেসার্স এসকে সাবিনা ফিসারিজ নামক একটি কোম্পানি আছে, কিন্তু মালিক তিনি নিজেই।এই কোম্পানির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১৩৭ কোটি টাকার বেআইনি লেনদেনের হদিস পেয়েছে ইডি।
একজন আন্তর্জাতিক চিংড়ি এক্সপোর্ট সংস্থার অংশীদারের বয়ান অনুসারে, শাহজাহান ভুয়া বিল তৈরি করে টাকা আত্মসাৎ করতেন।২০১২-২২ সালের মধ্যে ১০৪ কোটি এবং ২০১৮-২০ সালে ৩৩ কোটি টাকার বেআইনি লেনদেনের হদিস মিলেছে।
অন্যান্য উদাহরণ:
গোরু পাচার মামলায় অনুব্রত মণ্ডলের মেয়ে সুকন্যার নামও জড়িয়ে ছিল।শিক্ষা দুর্নীতিতে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে গ্রেপ্তার হন অর্পিতা চট্টোপাধ্যায়।
রেশন দুর্নীতির তদন্তে প্রাক্তন খাদ্য তথা বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকও ঢাল করেছিলেন পরিবারকেই।
এই প্রবণতা দেখায় যে, দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা তাদের অর্থায়নের উৎস লুকাতে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলিকে এড়াতে তাদের পরিবারের সদস্যদের ব্যবহার করছে। এই ধরণের অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য, তদন্তকারীদের অবশ্যই এই পন্থা সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে এবং এর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।