পরিযায়ী শ্রমিক থেকে লটারি কিং! জেনেনিন সর্বোচ্চ ইলেকশন বন্ড ক্রেতার উত্থান-রহস্য

ইসি-র ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, লটারি ব্যবসায়ী সান্তিয়াগো মার্টিনের সংস্থা ‘ফিউচার গেমিং অ্যান্ড হোটেল সার্ভিসেস’ ২০১৯-এর এপ্রিল থেকে ২০২৪-এর জানুয়ারি পর্যন্ত মোট ১,৩৬৮ কোটি টাকার নির্বাচনী বন্ড কিনেছে, যা সর্বোচ্চ।
এই ‘লটারি কিং’-এর জীবন এক রহস্যময় কাহিনী।
কর্মজীবনের শুরু:
মায়ানমারে শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেন।১৯৮৮ সালে ভারতে ফিরে কোয়েম্বাটোরে ‘মার্টিন লটারি এজেন্সিস লিমিটেড’ প্রতিষ্ঠা করেন।দুই ডিজিটের লটারি সিস্টেম চালু করে ‘লটারি মার্টিন’ বা ‘লটারি কিং’ খ্যাতি অর্জন করেন।
ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের বিস্তার:
লটারির ব্যবসা কর্নাটক, কেরালা, সিকিম, মেঘালয়, অরুণাচল প্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, পাঞ্জাব, মহারাষ্ট্রে ছড়িয়ে দেন।রিয়েল এস্টেট, কনস্ট্রাকশন, ভিস্যুয়াল মিডিয়া এন্টারটেইনমেন্ট, টেক্সটাইল, হসপিটালিটি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রযুক্তি, প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট, অনলাইন গেমিং, ক্যাসিনো থেকে ইমারতি দ্রব্যের ব্যবসা – সব ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করেন।’ফিউচার গেমিং সলিউশনস ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড’ ‘ওয়ার্ল্ড লটারি অ্যাসোসিয়েশন’-এর সদস্যপদ লাভ করে।
বিতর্ক ও অভিযোগ:
২০১১ সাল থেকে আয়কর ফাঁকি, আর্থিক প্রতারণা-সহ একাধিক অভিযোগে তদন্তের মুখে পড়েছে মার্টিনের সংস্থা।কেরালায় বিক্রি না হওয়া লটারির টিকিট সিকিমে লুকিয়ে প্রায় ৯০০ কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগ।২০২৩ সালে ইডি ৪৫৭ কোটি টাকার সম্পত্তি ফ্রিজ় করে।কলকাতায় ও আশেপাশের রাজ্যে বেআইনি ভাবে লটারির টিকিট বিক্রির অভিযোগ।রাজ্য সরকারগুলিকে না জানিয়েই ইচ্ছেমতো লটারির টিকিট ছাপানোর অভিযোগ।
রাজনৈতিক দলকে অনুদান:
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে মোটা টাকার অনুদান দিয়েছেন।অনেকের দাবি, এই অনুদান দিয়েই একাধিক মামলায় গ্রেপ্তারি এড়িয়েছেন।
সম্মাননা ও বিতর্ক:
২০০০ সালে ‘বেস্ট লটারি প্রফেশনাল অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন।ভারতের সবচেয়ে বেশি ব্যক্তিগত আয়করদাতা।