স্কুলে বেআইনি চাকরি-প্রাপকদের কি রাখা উচিত? পাল্টা প্রশ্ন করলো হাইকোর্ট

এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলার শুনানি প্রায় শেষ পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে। বুধবার, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চে শুনানির সময় আদালত গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছে।

বিচারপতি দেবাংশু বসাক ও বিচারপতি সব্বর রশিদির ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, নিয়োগ-দুর্নীতি প্রমাণিত হলে পুরো নিয়োগ বাতিল করা হতে পারে। বিকল্প হিসেবে নিয়োগের অংশবিশেষও বাতিল করা যেতে পারে।

তবে আদালত স্পষ্ট করে বলেছে, এখনও অনেক কিছু খতিয়ে দেখা বাকি। সবটা অবৈধ হলে পরিণতি যা হওয়ার তাই হবে।

এই মামলার শুনানি শুরু হয়েছে ১৯ দিন আগে। আদালত আগামী শুক্রবারের মধ্যে শুনানি শেষ করতে চায়।

বিতর্কিত চাকরি-প্রাপকরা এসএসসিকে বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিচারপতি বসাক এ বিষয়ে মন্তব্য করেন, এসএসসিকে বিশ্বাস করতে না পারলে তো গোটা নিয়োগই বাতিল করা উচিত।

আদালত আরও মনে করিয়ে দেয়, একটা পচা আপেল গোটা ঝুড়ির আপেলকে নষ্ট করে। বিতর্কিত চাকরি-প্রাপকদের যুক্তি, সেই পচা আপেল খুঁজে বের করুন। বিচারপতির প্রশ্ন, সেটা কি সম্ভব?

বিতর্কিত চাকরি-প্রাপকদের আইনজীবীর দাবি, স্কুল সার্ভিস কমিশনের তরফ থেকে আদালতে সব কথা বলা হচ্ছে না। এসএসসির কারা কারা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত, সেটা প্রকাশ্যে আনা হোক।

আদালতের পাল্টা যুক্তি, যদি এসএসসিকে বিশ্বাস না করা যায় তা হলে গোটা নিয়োগপ্রক্রিয়া বাতিল করে দেওয়া উচিত। আইনজীবীর প্রতি আদালতের বক্তব্য, ‘আপনি ঘটনাক্রম দেখুন। একটা পরীক্ষা নেওয়া হলো, মূল্যায়নের জন্যে একটি সংস্থাকে বরাত দেওয়া হলো, তারা আবার অন্য কাউকে নিয়োগ করল। সবটাই এসএসসির চোখের সামনে হয়েছে, কিন্তু তারা বলছে কিছু জানে না। তা হলে এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কি কোনও স্বচ্ছতা থাকল? বিতর্কিত চাকরি-প্রাপক এবং তাঁদের পরিবারের ১০ হাজার লোকের কথা বলা হচ্ছে। যে ২৩ লাখ চাকরিপ্রার্থী পরীক্ষা দিয়েছিলেন, তাঁদের কথা ভাবতে হবে তো।’