“আমরা ওর মুখ দেখতে চাই না”-শেখ শাহাজানের নাম শুনতেই ‘ক্ষোভ’ সন্দেশখালির

হোলির রঙে ছেয়ে গেলেও আজ হোলির দিন নয়। দীপাবলির আলোয় ঝলমলে সবকিছু, তবুও আজ দীপাবলি নয়। বৃহস্পতিবার সন্দেশখালিতে এক অদ্ভুত দৃশ্য দেখা গেল। হোলি ও দীপাবলির উৎসব একসাথে পালিত হচ্ছে। আবিরের রঙে ছেয়ে গেছে সব, আকাশে উড়ছে আতসবাজি। এই উৎসবের আনন্দে মাতোয়ারা সন্দেশখালির সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে মহিলারা।
কারণ, ৫৫ দিনের লড়াইয়ের পর অবশেষে গ্রেপ্তার হয়েছেন সন্দেশখালির ‘বাদশা’ শেখ শাহজাহান। জমি দখল, ভেড়ি ব্যবসার মাধ্যমে অনৈতিক আয়, রেশন দুর্নীতি, গোয়েন্দাদের উপর হামলা – এসব অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরে তাকে খুঁজছিল পুলিশ। শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার সকালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এই গ্রেপ্তারে সন্দেশখালির মানুষের মুখে মুক্তির হাসি। যারা দীর্ঘদিন ধরে শাহজাহান ও তার শাগরেদদের অত্যাচারের শিকার, আজ তারা উদযাপন করছে। আবির খেলে, বাজি পুড়িয়ে তারা তাদের আনন্দ প্রকাশ করছে।
এক মধ্যবয়সী মহিলা আবিরে ছেয়ে গেছেন। তিনি বলছেন, “আজ আমাদের জয়ের দিন। জোর করে জমি কেড়ে নেওয়া থেকে আমাদের গ্রামের মা-বোনেদের উপর অত্যাচার করা নেতা শেখ শাহজাহানকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। আমরা ওর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। ও যেন আর কোনও দিন সন্দেশখালিতে ফিরে না-আসে। আমরা ওর মুখ দেখতে চাই না।”
এক আদিবাসী বৃদ্ধা বলছেন, “এই এলাকায় শিবু, উত্তমরা আমাদের উপর নানা ভাবে অত্যাচার করত। ওদের মাথা ছিল শেখ শাহজাহান। আজ পুলিশ ওকে গ্রেপ্তার করেছে। আমরা তো আনন্দ করবই।”
তবে এই আনন্দের মধ্যেও কিছুটা সংশয় রয়েছে। শাহজাহানের বেশ কিছু শাগরেদ এখনও পলাতক। তাদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছেন এলাকার মানুষ।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সন্দেশখালির বেড়মজুর ঝুপখালি এলাকার মহিলারা গর্জে ওঠেন অভিযুক্ত ফেরার ওই নেতাদের গ্রেপ্তারের দাবিতে।
শেখ শাহজাহানের গ্রেপ্তার সন্দেশখালির মানুষের জন্য একটি নতুন সূচনার সূচনা। আশা করা যায়, এই ঘটনার পর এলাকায় শান্তি ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।