“আসল অপরাধী অধরা, নিরীহ সাংবাদিকদের গ্রেফতার করছেন”-রাজ্যকে ভর্ৎসনা হাইকোর্টের

সন্দেশখালি কাণ্ড নিয়ে তীব্র উত্তেজনা রাজ্যে। এরই মধ্যে রিপাবলিক বাংলার সাংবাদিক সন্তু পান গ্রেপ্তারির ঘটনায় তুঙ্গে ওঠে তরঙ্গ। বৃহস্পতিবার কলকাতা হাই কোর্ট তাকে জামিন মঞ্জুর করে, তবে তদন্ত প্রক্রিয়ায় অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করে।
গত একমাস ধরে সন্দেশখালির আসল চিত্র তুলে ধরছিলেন সাংবাদিকরা। পুলিশের উপর ভরসা না রেখে, অত্যাচারিত মানুষ তাদের অভিযোগ জানাচ্ছিলেন সংবাদমাধ্যমের কাছে। সোমবার বিকেল ৫ টায় আচমকাই সন্তু পানকে গ্রেপ্তার করে রাজ্য পুলিশ।
মঙ্গলবার বসিরহাট আদালতে তোলা হলে, পুলিশ ১০ দিনের হেফাজত চাইলেও আদালত তিন দিনের হেফাজতের নির্দেশ দেয়। এরপর হাই কোর্টে জামিনের আবেদন জানান সন্তু ও রিপাবলিক বাংলা।
বুধবার আইনজীবী মহেশ জেঠমালানি সন্তুর পক্ষ থেকে সওয়াল করেন। বৃহস্পতিবার শুনানিতে তিনি বলেন, পুলিশি ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়েছে। সম্ভ্রমহানির অভিযোগ ছাড়া বাকি সব অভিযোগ জামিনযোগ্য।
আদালত স্পষ্ট করে জানায়, অভিযোগ সাজানো মনে হচ্ছে। বিচারপতি কৌশিক চন্দ বলেন, “এফআইআর দেখে প্রাথমিকভাবে অযৌক্তিক এবং মোটিভেটেড মনে হচ্ছে।”
বারবার বলার পরেও রাজ্য সম্ভ্রমহানির অংশ পেশ করা ভিডিও দেখাতে পারে না। এরপর বিচারপতি পুলিশকে তীব্র ভর্ৎসনা করেন। তিনি বলেন, “মূল অভিযুক্তকে ধরতে পারছেন না, এদিকে নিরীহ সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার করছেন।”
আইনজীবী মহেশ জেঠমালানি আরও বলেন, “সন্তু পান একা নন, এবিপি আনন্দের সুমন দে-র বিরুদ্ধেও জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা করা হয়েছে। যে যে সাংবাদিকদের পছন্দ হচ্ছে না, তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হচ্ছে।”