পুলিশের ছদ্মবেশে প্রতারক, বিয়ের পর বেরিয়ে এলো অন্ধকার অতীত

মনির মিয়া, একজন স্মার্ট যুবক, মোবাইলে পরিচয়ের মাধ্যমে এক মহিলার প্রেমে পড়ে। প্রেমিকার বাড়িতে এসে এসআই পরিচয় দিয়ে বিয়ে করে থাকতেও শুরু করে। ভিজিটিং কার্ড বিতরণ এবং পরিচয়পত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে সে তার পরিচয় প্রমাণ করার চেষ্টা করে। কিন্তু স্থানীয়দের তার হাবভাবে সন্দেহ হয়।

পরে জানা যায়, মনির মিয়া একজন প্রতারক। তার সুঠাম দেহ ও সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে সে প্রেমের ফাঁদে বিয়ে করে টাকা এবং মূল্যবান সামগ্রী হাতিয়ে নেয়। পুলিশ জানায়, মনির মিয়া পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন এবং আগে একজন পিকআপ ভ্যানচালক ছিলেন।

মনির মিয়া ঈশ্বরগঞ্জের এক মহিলাকে বিয়ে করে। গ্রামবাসীদের সন্দেহ হলে তারা বিষয়টি ঈশ্বরগঞ্জ থানার এসআই মো. উমর ফারুক রাজুর কাছে জানান। মনিরের দেওয়া ভিজিটিং কার্ড পরীক্ষা করে পুলিশ জানতে পারে যে ভৈরব থানায় তার নামে কোন এসআই নেই। জেরায় মনির স্বীকার করে যে সে কোনও পুলিশকর্মী নয়।

পুলিশ জানায়, মনির মিয়ার বিরুদ্ধে আগেও বিভিন্ন অভিযোগ এসেছে। সে একজন স্বামী পরিত্যক্তা মহিলাকে বিয়ে করেছিলেন এবং নেত্রকোনার সাতপাইকে তার বাড়ি বলে দাবি করেছিলেন। মনির মিয়ার মা জানান, তাদের বাড়ি পূর্বধলা উপজেলার হিরণপুরের মাতাঙ্গ গ্রামে। পুলিশ আরও জানায়, মনির মিয়া আগেও সরকারি আধিকারিকের পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে জেলেও গিয়েছিলেন।

মনির মিয়ার কাহিনী প্রতারণা ও লোভের এক ভয়ঙ্কর দৃষ্টান্ত। তার কাহিনী আমাদের সতর্ক থাকার এবং সহজে প্রতারিত না হওয়ার শিক্ষা দেয়।