ভোটে হেরেও পড়ে রয়েছেন জেলায়, সায়ন্তিকাকেই এবার বড় পরীক্ষায় নামাবে তৃণমূল?

দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম চর্চিত লোকসভা কেন্দ্র বাঁকুড়া। গত লোকসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রটি হাতছাড়া হয় শাসক দলের। তৃণমূল প্রার্থীকে হারিয়ে সংসদে যাওয়ার ছাড়পত্র আদায় করে নেন বিজেপির সুভাষ সরকার।
২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে বাঁকুড়া, ছাতনা, শালতোড়া ও পুরুলিযার রঘুনাথপুর বিধানসভার দখল নেয় বিজেপি। বাকি জঙ্গলমহলের রায়পুর, বানীবাঁধ ও তালডাংরা বিধানসভায় শেষ হাসি হাসে ঘাস ফুল শিবির।
এই পরিস্থিতিতে আগামী লোকসভা নির্বাচনে বাঁকুড়া কেন্দ্রে তৃণমূল আবারও জয়ের লক্ষ্যে অভিনেত্রী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রার্থী করার বিষয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।
গত বিধানসভা নির্বাচনে বাঁকুড়া কেন্দ্রেই বিজেপির নীলাদ্রি শেখর দানার কাছে ১ হাজার ৩৭৬ ভোটে পরাজিত হয়েছিলেন সায়ন্তিকা। কিন্তু, এই পরাজয়ের পরেও সেখানকার রাজনীতিতে অবাধ বিচরণ তার। নিজের ‘বহিরাগত’ তকমা ঝেড়ে ফেলে বাঁকুড়ায় একপ্রকার ‘ঘাঁটি’ গেড়ে ফেলেছেন তিনি।
ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মতে, সংসদে তারকা মুখ পাঠানোর বিষয়টি তৃণমূলের ক্ষেত্রে এই প্রথম নয়। এর আগে মিমি চক্রবর্তী থেকে শুরু করে নুসরত জাহান রাজ্য শাসক দলের থেকে সংসদের গিয়েছেন। তালিকায় রয়েছেন দেবও।
তবে, তৃণমূলের বাঁকুড়া জেলা মুখপাত্র মহাপ্রসাদ সেনগুপ্ত বলেন, “কে প্রার্থী হবেন জানি না। যিনি প্রার্থী হবেন তাঁকে বেছে নেবেন স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি যাতে লোকসভা নির্বাচনে জয়ী হন সেই জন্য সব কর্মীরা সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়বে।”
অন্যদিকে, বিজেপির বাঁকুড়া জেলা সভাপতি সুনীল রুদ্র মণ্ডল বলেন, “তৃণমূল কাকে প্রার্থী করবে তা নিয়ে আমাদের কোনও মাথা ব্যথা নেই। এবারেও তৃণমূল হারবে। মুনমুন সেন সাংসদ থাকাকালীন বাঁকুড়ার মানুষ হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছেন সেলেব মুখের সমস্যা। ফের সেলিব্রেটিকে তৃণমূল প্রার্থী করলেও এখানকার মানুষের মন গলবে না। বাঁকুড়ার মাটির গন্ধ না থাকা মানুষকে এখানকার মানুষ প্রত্যাখ্যান করবেন।”