‘এই সম্মান শুধু আমার নয়, সকল মৃৎশিল্পীর’, পদ্মশ্রী পেয়ে উচ্ছ্বসিত সনাতন রুদ্র পাল

সনাতন রুদ্র পাল, স্বনামধন্য মৃৎশিল্পী মোহনবাঁশি রুদ্র পালের সুযোগ্য সন্তান। তিনি বাংলার সাবেকিয়ানা মূর্তি গড়ার অন্যতম পথিকৃৎ। তাঁর হাতে গড়া দুর্গা মায়ের প্রতিমা আজও দর্শকদের মুগ্ধ করে। সম্প্রতি, তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।

সম্মাননা পেয়ে সনাতন রুদ্র পাল বলেন, “আমার সারা জীবনের কাজের স্বীকৃতি এই পদ্মশ্রী সম্মাননা। এই সম্মান শুধু আমার নয়, সকল মৃৎশিল্পীর। আমি এই সম্মান সকল মৃৎশিল্পীর সঙ্গে ভাগ করে নিতে চাই।”

ছোটবেলা থেকেই বাবার কাছে কাজ শেখেন সনাতন রুদ্র পাল। ধীরে ধীরে নিজেকে পটু করে তোলেন এই কাজে। মাতৃরূপকে গড়ে তোলার পেছনে বিশেষ সাধনা প্রয়োজন। জীবনের এতগুলো বছর পেরিয়ে তাঁর কর্মকাণ্ডের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার পদ্মশ্রী পুরস্কারে ভূষিত করল।

দুর্গাপুজোর চালচিত্রে থিমের রং লেগেছে গত কয়েক বছরে। প্যান্ডেলের কারুকার্যে আধুনিকতার ছোঁয়া তো লেগেছেই, বাদ যায়নি মূর্তি গড়ার কাজও। তবে সনাতন রুদ্র পালের বিশেষ টান রয়েছে সবেকিয়ানার প্রতি। তিনি বলেন, “মায়ের সাবেকিয়ানার যে রূপ, সেটার কোনও তুলনা হয় না। বহু শিল্পী কিন্তু এখনও সেই মূর্তি তৈরি করে থাকেন। আমার বিশ্বাস এই শিল্পধারা কোনওদিন হারিয়ে যাবে না।”

সনাতন রুদ্র পালের এই পুরস্কার আগামী দিনের শিল্পীদের বিশেষ উৎসাহ যোগাবে বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “এই যে আমাকে সম্মানটা দেওয়া হল, সেটা কিন্তু আগামী দিনের শিল্পীদের এই কাজে আগ্রহ বাড়বে। তাঁরা জানবে, এই কাজ করেও এরকম সম্মান পাওয়া যায়।”

পদ্মশ্রী পাওয়ার পর থেকেই কুমোরটুলি থেকে শুরু করে বিভিন্ন মহল থেকে শুভেচ্ছা বার্তায় ফোন আসছে একের পর এক।