বাংলায় আবারও সমকামী বিয়ে, ফের বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ দুই মহিলা

সাম্প্রতিককালে দেশে সমপ্রেম বিবাহের ঘটনা বাড়ছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলা। মালদার ইংরেজবাজার শহরের মেডিক্যাল কলেজ সংলগ্ন হ্যান্টা কালী মন্দিরে ভালোবাসার টানে একে অপরকে মালা ও সিঁদুর পরিয়ে বিয়ে করলেন পপি মণ্ডল ও প্রতিমা বিশ্বাস নামে দুই মহিলা।

পপি মণ্ডলের বাড়ি মালদার বামনগোলা থানা এলাকায়, আর প্রতিমা বিশ্বাসের বাড়ি জেলারই কালিয়াচকে। পপি ও প্রতিমা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁদের মধ্যে মোবাইলে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব গড়ায় প্রেমের সম্পর্কে। এরপর বুধবার গভীর রাতে ইংরেজবাজার শহরের হ্যান্টা কালীবাড়িতে সিঁদুরদান ও মালাবদল করে একে অপরের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তাঁরা।

বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। শোরগোল পড়ে যায় স্থানীয়দের মধ্যে। ওই দুই মহিলারই বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁরা একে অপরের সঙ্গে ভালোবাসার সম্পর্কে আবদ্ধ রয়েছেন। পরিবারের সদস্যরা সমর্থন না করায় তাঁরা এদিন বাড়ি থেকে পালিয়ে কালী মন্দিরে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেন। সামাজিক সমালোচনার ভয়কে উপেক্ষা করে তাঁদের ভালোবাসার যে জয় হয়েছে, এতেই খুশি পপি ও প্রতিমা।

প্রতিমা বিশ্বাস বলেন, “গত ২ বছর ধরে আমাদের ভালোবাসা। বাড়ির লোককে মেনে নেবে না, তাই পালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। আগামীদিনে কাজ করব। এখন ভাড়া বাড়িতে থাকব।”

পপি মণ্ডল বলেন, “আমরা একে অপরকে ভালোবাসি। বাড়িতে বলেছিলাম, অনেকরকমভাবে বুঝিয়েছিলাম। আমরা বিয়ে না করলেও একে অপরের পাশে থাকব বলেছিলাম, কিন্তু বাড়ির লোকেরা কোনওরকমভাবেই মানছিল না। এমনকী বন্ধুত্বটাকেও মানছিল না। তাই বাধ্য হয়ে আজ বিয়ে করলাম।”

পপি আরও বলেন, “পৃথিবীতে কাজের অভাব নেই। শপিং মল আছে, বিভিন্ন সংস্থা আছে, কোনও না কোনও কাজ করে ঠিক চালাতে পারব। ব্যবস্থা ঠিক হয়েই যাবে।”

এই ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেকেই এই দুই মহিলার সাহসী পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন। কেউ কেউ আবার তাদের সমালোচনাও করেছেন।

প্রসঙ্গত, কয়েক বছর আগে, শহর কলকাতার এক যুবক বিয়ে করেন হায়দরাবাদে এক যুবককে। হায়দরাবাদেই ধূমধাম করে বিয়ে হয় তাঁদের। প্রথমে সামাজিক আপত্তি থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাঁদের ক্ষেত্রেও জয় পেয়েছিল ভালোবাসা।

এই ঘটনাগুলি আশা জাগিয়ে তোলে যে, একদিন সমপ্রেমকেও সামাজিকভাবে মেনে নেওয়া হবে।