সুবোধবাবুর বিখ্যাত নারকেল সিঙাড়া, সুস্বাদুতে বাজিমাত, বিহার থেকে খেতে আসে জনতা!

দুর্গাপুরের পশ্চিম রেলগেটের কাছে একটি জরাজীর্ণ ঠেলাগাড়িতে করে নারকেলের সিঙাড়া বিক্রি করে সুবোধ চক্রবর্তী। প্রায় ৩০ বছর ধরে তিনি এই সিঙাড়া বিক্রি করে আসছেন। তাঁর এই নারকেলের সিঙাড়ার স্বাদের জন্য দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় জমান।
সুবোধবাবু জানান, তিনি তাঁর দাদা’র কাছ থেকে নারকেলের সিঙাড়া তৈরি করতে শিখেছিলেন। নারকেল কোঁড়া, কাঁচা পেঁয়াজ, লংকা কুচি এবং চিনাবাদাম দিয়ে এই সিঙাড়া তৈরি হয়। তাতে শুধুমাত্র লবণ এবং চিনি ছাড়া আর কোনও মশলা ব্যবহার করা হয় না।
সুবোধবাবুর নারকেলের সিঙাড়ার স্বাদ অতুলনীয়। একবার যে খেয়েছেন, তিনি বারবার খেতে চান। ব্যবসার শুরুতে তিনি ১ টাকা ৫০ পয়সা করে সিঙাড়া বিক্রি করতেন। বর্তমানে তিনি ৬ টাকা করে বিক্রি করেন। প্রতি সিঙাড়ায় তার ১ টাকা লাভ হয়।
প্রতিদিন সুবোধবাবুর ঠেলাগাড়িতে প্রায় ৪০০ সিঙাড়া বিক্রি হয়। এছাড়াও তিনি ব্রেড চপ, আলুর চপ এবং ভেজিটেবল চপও বিক্রি করেন। সুবোধবাবুর পুত্র প্রভাত চক্রবর্তী জানান, দুর্গাপুরে আর কোথাও এই সিঙাড়া পাওয়া যায় না।
সুবোধবাবুর সিঙাড়ার স্বাদ নিতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসে। স্থানীয় গ্রাহক দিব্যেন্দু সিনহা এবং অঞ্জনা সিনহা বলেন, “সুবোধবাবুর নারকেলের সিঙাড়া ব্যাপক সুস্বাদু। আমরা দীর্ঘ প্রায় ২০-৩০ বছর ধরে এই সিঙাড়া খাচ্ছি।” বিহারের বাসিন্দা মহম্মদ ইজাজ, ইমরান এবং মহম্মদ আনসার বলেন, “এই নারকেলের সিঙাড়া বেঙ্গল স্পেশ্যাল। বিহারে পাওয়া যায় না। আমরা কর্মসূত্রে দুর্গাপুরে থাকি। প্রায় প্রতিদিন নারকেলের সিঙাড়া খাওয়ার জন্য সুবোধবাবুর দোকানে আসি। খুব সুস্বাদু নারকেলের সিঙাড়া।”
কলকাতা থেকে ট্রেনে বা ধর্মতলা থেকে বাসে চড়ে সোজা দুর্গাপুর রেল স্টেশন বা বাস স্ট্যান্ডে নামতে হবে। স্টেশনের কাছেই পশ্চিম রেলগেট সংলগ্ন এলাকায় রাস্তায় পাশেই সুবোধবাবুর সিঙাড়ার দোকান।