প্রাণ ফিরছে কুনোর জঙ্গলে, ৩ টি শাবকের জন্ম দিল চিতা ‘জ্বলা’

কুনোর জঙ্গলে আরও তিনটি চিতা শাবকের জন্ম হয়েছে। নামিবিয়া থেকে আনা চিতা ‘জ্বলা’ এই শাবকগুলির জন্ম দিয়েছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব। গত বছরের মার্চ মাসে ‘জ্বলা’ চারটি শাবকের জন্ম দিয়েছিল। কিন্তু তার মধ্যে তিনটি শাবকের মৃত্যু হয়েছিল। একটি মহিলা শাবক বেঁচে ছিল।

কুনোর জঙ্গলে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার কোনও চিতা শাবকের জন্ম দিল। এর আগে গত ৪ জানুয়ারি নামিবিয়া থেকে আসা চিতা ‘আশা’ ৩টি শাবকের জন্ম দিয়েছিল। ‘আশা’-র সন্তান জন্ম দেওয়ার কথাও সেই সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে জানিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব।

১৯৫২ সালে ভারত থেকে চিতা পাকাপাকিভাবে অবলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর ভারতে চিতা আনার ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করে নরেন্দ্র মোদী সরকার। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ১২টি এবং নামিবিয়া থেকে আটটি চিতা আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। প্রথম দফায় ২০২২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ৮টি চিতা মধ্যপ্রদেশের কুনোর জঙ্গলে ছাড়া হয়েছিল।

পরে বাকি চিতাগুলিও ছাড়া হয়েছিল কুনোতে। গত মার্চ মাসে ৪টি চিতা শাবকের জন্ম হওয়ায়, চিতার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছিল ২৪। কিন্তু ২০২৩ সালের মার্চ মাসের পর থেকে কুনোর জঙ্গে চিতা মৃত্যুর ঘটনা বাড়তে থাকে। কমতে থাকে চিতার সংখ্যা। এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন কুনো কর্তৃপক্ষ।

মৃত্যুর পিছনে পরিবেশ এবং জলবায়ু প্রধান কারণ বলে জানিয়েছিল পশু চিকিৎসকদের একাংশ। কিন্তু নতুন বছরে বেশ কয়েকটি চিতা শাবকের জন্ম হওয়ায়, সেই উদ্বেগ কিছুটা কমল।

এই সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব। তিনি বলেন, “জ্বলা’-র জন্মদান প্রমাণ করে যে ভারতে চিতা প্রজনন সম্ভব। প্রধানমন্ত্রীর চিতা প্রকল্পে সাফল্য এসেছে। কুনোর জঙ্গলে প্রাণ ফিরছে।”

কুনোর জঙ্গলে চিতা শাবকের জন্মের খবরকে স্বাগত জানিয়েছেন পরিবেশবিদরাও। তারা বলেন, “চিতা প্রজননে সাফল্য একটি ইতিবাচক বার্তা। এতে চিতার সংখ্যা বাড়বে এবং কুনোর জঙ্গল তার প্রাকৃতিক ভারসাম্য ফিরে পাবে।”

কুনোর জঙ্গলে চিতা শাবকের জন্মের খবরে আশার আলো দেখা দিয়েছে। এতে ভারতে চিতার প্রজনন সম্ভব বলে প্রমাণিত হয়েছে। তবে চিতা মৃত্যুর ঘটনা রোধ করতে হলে পরিবেশ এবং জলবায়ু পরিস্থিতির উন্নতি করতে হবে।