‘চ্যাং ব্যাং নেতারা সিনিয়রদের জ্ঞান দেবে মেনে নেওয়া যায় না’, ফের বিস্ফোরক মন্তব্য হুমায়ুনের

মুর্শিদাবাদের ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের ‘চ্যাং ব্যাং’ কটাক্ষ ঘিরে তৃণমূলে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ করলেও, নবীন নেতাদের একাংশকে ‘চ্যাং ব্যাং’ বলে আক্রমণ করেছেন তিনি। বললেন, ‘দল ব্যবস্থা নিলে নেবে, আমি পথ খুঁজে নেব, দিদি স্নেহ করেন, কিন্তু চ্যাং ব্যাং নেতারা সিনিয়রদের জ্ঞান দেবে মেনে নেওয়া যায় না।’

শুক্রবার কালীঘাটের দলের বৈঠকে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি হুমায়ুন কবীরের নাম করে নির্দেশ দিয়েছিলেন, তিনি যেন সংবাদমাধ্যমের সামনে বেশি কথা না বলেন। কিন্তু সেই নির্দেশের পরও থামার কোনও লক্ষণ নেই হুমায়ুনের। বরং, এবার তিনি আরও আক্রমণাত্মক মনোভাব প্রকাশ করেছেন।

হুমায়ুন কবীরের মতে, “কোনও চ্যাং ব্যাং, ২৭ – ২৮ বছরের ছেলেরা ৬০, ৬২, ৭০ বছরের নেতৃত্বকে অবহেলা করবে, তাঁদের কর্তৃত্ব নিয়ে চ্যালেঞ্জ করবে, ভুল ট্রিটমেন্ট করা, মূল্যায়ন করা, মেনে নেওয়া যায় না। সে সব মানব না!”

এই মন্তব্যে স্পষ্টতই নবীন নেতাদের একাংশকে নিশানা করেছেন হুমায়ুন। তবে, তিনি দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছেন।

হুমায়ুন কবীরের এই মন্তব্যের পর প্রশ্ন উঠছে, তিনি ঠিক কাকে বা কাদের ‘চ্যাং ব্যাং’ বলতে চাইছেন? সম্প্রতি বিভিন্ন জেলায় ব্লক স্তরে সভাপতি ও সহসভাপতি পদে রদবদল ঘটিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। বাদ যায়নি মুর্শিদাবাদও। তাহলে কি সেই বিষয়ে নিজের অসন্তোষ এইভাবে প্রকাশ করলেন হুমায়ুন?

হুমায়ুন কবীরের এই মন্তব্যে তৃণমূলে দ্বন্দ্বের আঁচ লাগার আশঙ্কা রয়েছে। এর আগেও নিজের মন্তব্যের জন্য বিভিন্ন সময় সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছেন তিনি। তাঁর মন্তব্য বিভিন্ন সময় অস্বস্তিতে ফেলেছে দলকে। এমনকী তার জন্য শোকজও করা হয়েছে তাঁকে।

সেক্ষেত্রে এবার দেখার, তাঁর এই নয়া মন্তব্য কোন দিকে মোড় নেয়?