বিশেষ: অযোধ্যাই শুধু নয়, জানেন কি আরও এক রাজ্যের রাজা হিসেবে অবস্থান করেন ভগবান রাম

অযোধ্যায় তিনি রাজা দশরথের পুত্র, ছোট্ট শিশু রামলালা। অযোধ্যায় তিনি ঘরের ছেলে হিসেবেই পুজিত হন। কিন্তু মধ্যপ্রদেশের ওড়ছায় তিনি রাজা হিসেবে পুজিত হন। এই প্রাসাদে প্রতিদিন পুলিশ তাকে গার্ড অব অনার দেয়।
ওড়ছা প্রাসাদের ভেতরেই রয়েছে রাজা রামের মূর্তি। এই মন্দিরটিকে রাম রাজা মন্দির বলা হয়। মন্দিরটি প্রাসাদের জাহাঙ্গির মহল এবং রাজমহল নামে দুটি বিল্ডিংয়ের মাঝেই অবস্থিত। এটিই ভারতের একমাত্র মন্দির যেখানে রাম রাজা রূপে পুজিত হন।
ওড়ছার রানি গণেশ কানওয়ারি এই মন্দিরটি তৈরি করেছিলেন। তিনি শ্রীরামকে এতটাই ভালবাসতেন যে অযোধ্যা থেকে তাঁর মূর্তি তৈরি করিয়ে নিয়ে এসেছিলেন। তিনি সেই মূর্তি কোনও মন্দিরে স্থাপন করতে চাননি, প্রাসাদেই রাখতে চেয়েছিলেন। তাই প্রাসাদের ভেতরেই মন্দিরটি তৈরি হয়েছিল।
এক কাহিনী প্রচলিত আছে যে, ওড়ছার রাজা মধুকর শাহ ছিলেন কৃষ্ণ ভক্ত আর তাঁর রানি গণেশ কানওয়ারি ছিলেন রাম ভক্ত। রাজা শ্রীকৃষ্ণের জন্মস্থান বৃন্দাবন যেতে চেয়েছিলেন, কিন্তু রানি অযোধ্যায় যাওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেন। শেষে রাজা শর্ত রাখেন যে রানি যেন অযোধ্যা থেকে শিশু রাম বা রামলালার মূর্তি নিয়ে আসেন। সেই শর্তে রাজি হন রানি।
অযোধ্যা গিয়ে রানি ২১ দিন ধ্যান করেন। তাঁর ধ্যানে সন্তুষ্ট হয়ে রামলালা তাঁর সঙ্গে যেতে রাজি হন। কিন্তু শর্ত দেন যে, যেখানে রানি তাঁকে প্রথমে মাটিতে রাখবেন, সেখানেই তিনি অবস্থান করবেন।
রাজা রানি একটি বাস্কেটের ভিতরে রামলালার মূর্তি নিয়ে রওনা হন অযোধ্যা থেকে। ওড়ছার প্রাসাদে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন তাঁরা। সেই সময় ভুল করে রানি বাস্কেটটি প্রাসাদের মাটিতে রেখে দেন। তারপর আর সেখান থেকে রামলালার মূর্তি সরানো যায়নি। শেষে সেই প্রাসাদটিকেই মন্দির তৈরি করেন রাজা।
ওড়ছায় রাম রাজা মন্দির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই মন্দির দর্শনে আসেন।