BigNews: নিজের কর্মীর বিরুদ্ধেই পুলিশে গেলো ED

টাকা পাচারের মামলার তদন্তের জন্য বিখ্যাত কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি-রই এক কর্মীর বিরুদ্ধে জালিয়াতি করে টাকা তছরুপের অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগে ইডি-র পক্ষ থেকে রাজ্য পুলিশের কাছে তদন্তের আবেদন জানানো হয়েছে।

ইডি সূত্রের খবর, সশস্ত্র সীমা বল বা এসএসবি থেকে ডেপুটেশনে ইডি দপ্তরে সিপাইয়ের কাজে যোগ দিয়েছিলেন সুকুমার কামিল্যা। ২০২১-এর মাঝামাঝি নিজের স্ত্রীর চিকিৎসার খরচ হিসাবে ভুয়ো মেডিক্যাল বিল জমা করে তিনি রিইম্বার্সমেন্ট হিসাবে দপ্তর থেকে প্রায় ৭ লক্ষ ১৩ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এই বিষয়টি সম্প্রতি নজরে আসে ইডি-র।

ইডি-র অতিরিক্ত অধিকর্তা চন্দ্রমনীষী কুমার বিধাননগর উত্তর থানায় একটি এফআইআর করেছেন। এতে অভিযোগ করা হয়েছে, সুকুমারের স্ত্রী অসুস্থ হয়ে মুকুন্দপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তাঁর চিকিৎসার জন্য সব মিলিয়ে আড়াই লক্ষ টাকার মতো খরচ হয়েছিল। কিন্তু সুকুমার রিইম্বার্সমেন্টের সময়ে প্রায় সাড়ে সাত লক্ষ টাকার বিল জমা দেন।

পরে ইডি-র অফিস আধিকারিকদের বিষয়টি নজরে আসলে তাঁরা ওই হাসপাতালের কাছে আবার রিইম্বার্সমেন্ট বিলের প্রতিলিপি জমা দিয়ে যাচাই করেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেন, এই অঙ্কের বিলটি তাঁরা ইস্যু করেননি।

ইডি-র অভিযোগের ভিত্তিতে বিধাননগর উত্তর থানা প্রতারণা ও জালিয়াতির বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। ইডি সূত্রের দাবি, সুকুমার বর্তমানে এসএসবি-র হেড কনস্টেবল হিসাবে বারাসতের আমডাঙায় কর্মরত।

এই ঘটনাটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, ইডি-ই সেই সংস্থা যা টাকা পাচারের মামলার তদন্ত করে থাকে। সেই সংস্থারই এক কর্মীর বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। তাই এই ঘটনায় রাজ্য পুলিশের তদন্তের ফলাফলের দিকে নজর থাকবে।

এদিকে, এই ঘটনার মধ্যেই রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতিতে তোলপাড় চলছে। রেশন দুর্নীতি মামলায় সন্দেশখালিতে তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহানের বাড়িতে তল্লাশি চালাতে গিয়ে ইডি আধিকারিকদের নিগৃহীত হওয়ার ঘটনায় ইডি রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ এনেছে। পাল্টা রাজ্যের শাসক দল প্রশ্ন তুলেছে, ইডির যে অফিসারের বিরুদ্ধেই আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন মামলায় তদন্ত করছে, সেই অফিসারকেই এই তদন্তে রাখা হলো কেন?

এই প্রেক্ষাপটে নিজেদের অফিসেরই এক প্রাক্তন কর্মীর বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত চেয়ে রাজ্য পুলিশের সহযোগিতা চাওয়ার ঘটনা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন পুলিশকর্তাদের একাংশ।

Editor001
  • Editor001