OMG! বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের জেরে ভেঙে যাওয়া সম্পর্ক নতুন করে জোড়া লাগল স্বামী-স্ত্রীর মধ্য়ে

প্রতিদিনই বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে অনেক সম্পর্ক ভেঙে যায়। কিন্তু এমন ঘটনাও ঘটে যখন সেই সম্পর্কের জেরেই আবার সম্পর্ক জোড়া লাগতে পারে। এমনই একটি ঘটনা ঘটেছে বাংলাদেশের একটি দম্পতির ক্ষেত্রে।
২৪ বছর আগে বিয়ে হয়েছিল এই দম্পতির। সুখেই কাটছিল তাঁদের দাম্পত্য জীবন। কিন্তু সম্প্রতি স্বামী অন্য এক মহিলার সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এরপর দাম্পত্য জীবনে ধরে চিড়।
স্বামীকে শাস্তি দিতে ডিভোর্সের সিদ্ধান্ত নেন স্ত্রী। তৈরি করেন ডিভোর্সের পেপারও। কিন্তু একদিন দম্পতি মুখোমুখি হতেই, স্বামী সমস্ত কথা জানিয়েছিলেন স্ত্রীকে। সব কথা শোনার পর নিমেষের মধ্যে উধাও হয়ে যায় ক্ষোভ। স্বামীকে শিক্ষা দিতে খারাপ ব্যবহার করছেন বলে বুঝতে পেরেছিলেন মহিলা। এরপরেই সমস্ত অভিমান দূরে সরিয়ে ফের একসাথে চলার শপথ নিয়েছেন বলে মহিলা পোস্টে উল্লেখ করেছেন।
মহিলা জানান যে প্রথম যখন স্বামীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক জানতে পেরেছিলেন, তখন খুব দুঃখ পেয়েছিলেন। রেগেও গিয়েছিলেন বিস্তর। স্বামী বুঝতেও পেরেছিলেন। এরপর ঘৃণা করতে শুরু করেছিলেন। স্বামীর নাম ধরেই ডাকতেন। দাম্পত্য সম্পর্কে তৈরি করেছিল দূরত্ব। এই ধরনের আচরণ নিয়ে স্বামী তাঁকে প্রশ্নও করেননি বলে জানিয়েছেন ওই মহিলা। অন্য মহিলার সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে স্বামী তাঁর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বলে সন্দেহ তৈরি হয়েছিল।
স্ত্রীর বিরূপ আচরণের জন্য অনেক সময় কথা কাটাটিতে জড়িয়ে পড়ছিলেন স্বামী। বচসার সময় একে অপরকে দুর্ব্যবহার পর্যন্ত করেছিলেন। পোস্টে মহিলা জানান, একদিন বচসার সময় স্বামী অন্য মহিলার সঙ্গে সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছিলেন। পুরো ঘটনাটি জানান স্ত্রীকে।
স্বামীর সঙ্গে অন্য মহিলার সম্পর্কের কথা জানার পরেই, ইউটার্ন নিয়েছিলেন স্ত্রী। স্বামীর সঙ্গে কথোপকথনের সময় মহিলা বুঝতে পেরেছিলেন, বিবাদ হলেও স্বামীর প্রতি তাঁর ভালোবাসার টান। এরপর অনেকক্ষণ একসঙ্গে কেঁদেছিলেন ওই দম্পতি। বিবাহবিচ্ছেদ যে তাঁর কাম্য নয়, স্ত্রীকে জানিয়েছিলেন স্বামী। নতুন করে সম্পর্ক স্থাপনে অঙ্গীকার করেছিলেন তাঁরা।
এই ঘটনাটি বিবাহবিচ্ছেদের ঝুঁকিতে থাকা সম্পর্কগুলির জন্য একটি বার্তা। বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক যে কোনও সম্পর্কের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা সম্ভব যদি দুই সঙ্গীই একে অপরের প্রতি ভালোবাসা ও আস্থা রাখেন।