গঙ্গাসাগর মেলায় ৬৫ লাখ পুণ্যার্থীর সমাগম, পকেটমারি ও ধরপাকড় নিয়ে মুখ খুললেন রাজ্যের মন্ত্রী

পৌষ সংক্রান্তির আগেই গঙ্গাসাগর মেলায় জনস্রোত আছড়ে পড়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মেলা উদ্বোধনের পর থেকেই ভিড় লেগেই রয়েছে মেলা প্রাঙ্গণে। সময় যত এগোচ্ছে ততই বাড়ছে ভিড়।

রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস রবিবার এক সাংবাদিক বৈঠক করে জানান, এদিন দুপুর ১২টা পর্যন্ত মেলায় ৬৫ লাখ পুণ্যার্থীর সমাগম হয়েছে। তাঁদের মধ্যে অনেকেই পুণ্যস্নান সেরে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন।

মেলার সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, “মেলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ১৪ হাজারেরও বেশি পুলিশ কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। ২ হাজার ৪০০ জন সিভিল ডিফেন্সের স্বেচ্ছাসেবক ও অসামরিক প্রতিরক্ষা দফতরের জল প্রহরী তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে সদা-সর্বদা সজাগ রয়েছেন।”

মন্ত্রী আরও জানান, মেলা উপলক্ষে কপিল মুনির আশ্রম-সহ গোটা মেলা চত্বরকে সুন্দরভাবে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। গড়ে তোলা হয়েছে বিশ্রামাগার, নয়া পাকা রাস্তা, পথ আলো, যাত্রী নিবাস, পানীয় জলের ব্যবস্থা এবং দশ হাজারেরও বেশি শৌচালয়। এবারের মেলায় পুণ্যার্থীদের যাতায়াতের জন্য ২২টি জেটি ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়াও তীর্থযাত্রীদের সুবিধার্থে আড়াই হাজার বাস, ৬টি বার্জ, ৩৮ টি ভেসেল ও ১০০টি লঞ্চের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, তবে ভিড়ের সঙ্গে দেখা গিয়েছে অপরাধমূলক কাজও। মেলায় পকেটমারির ঘটনা ঘটলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই খোয়া যাওয়া সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন অপরাধে মোট ২৫০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া এখনও পর্যন্ত ২,৮৪৬ জন তীর্থযাত্রী তাঁদের পরিবারের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে ২,৮১০ জনকে পুনরায় তাঁদের পরিবারের সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, “মেলায় তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তা ও সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য আমরা সবরকম ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।”