দার্জিলিং চায়ের উৎপাদনে ধাক্কা, ৫০ বছরে এই প্রথম সর্বনিম্ন উৎপাদন

দার্জিলিং চা বিশ্বের বিখ্যাত চায়ের মধ্যে একটি। কিন্তু ২০২৩ সালে এই চায়ের উৎপাদন মারাত্মকভাবে মার খেয়েছে। ২০২২ সালে ৬.৯ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদিত হয়েছিল, যা ২০২৩ সালে কমে দাঁড়িয়েছে ৬.১ থেকে ৬.৩ মিলিয়ন কেজিতে। অভিজ্ঞ মহলের মতে, গত ৫০ বছরে এই পরিমাণে চায়ের উৎপাদন কমে যাওয়ার ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি।

চা উৎপাদনের এই পতনের বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হল চা বাগানের সংখ্যা কমে যাওয়া। বর্তমানে দার্জিলিংয়ে ১০টি চা বাগান বন্ধ রয়েছে। এই বাগানগুলি থেকে বছরে প্রায় ১ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদিত হত।

চা শ্রমিকদের অভাবও চায়ের উৎপাদন কমিয়ে দেওয়ার অন্যতম কারণ। দার্জিলিংয়ে চা পাতা তোলার কাজ মূলত শ্রমিকরাই করে থাকেন। কিন্তু বর্তমানে চা শ্রমিকদের অভাবে এই কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনা আরেকটি বড় কারণ। ২০২৩ সালে দার্জিলিংয়ে আবহাওয়া ছিল অস্বাভাবিক। অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে চা পাতায় রোগ-বালাই আক্রমণ করে। ফলে চায়ের গুণমান কমে যায় এবং উৎপাদনও কমে যায়।

এই পরিস্থিতিতে দার্জিলিং চায়ের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য চা বাগান মালিকদের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। চা শ্রমিকদের অভাব পূরণের জন্য নতুন শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি আবহাওয়ার পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য চা বাগানগুলিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

দার্জিলিং চায়ের উৎপাদন মার খেলায় দার্জিলিং চায়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এই সমস্যা সমাধানে চা বাগান মালিকদের পাশাপাশি সরকারেরও উদ্যোগ নেওয়া উচিত।