ডিসেম্বর শেষে ইউক্রেনকে সহযোগিতার অর্থ থাকবে না আমেরিকার, বাড়ছে উদ্বেগ

দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের দেশ ইউক্রেনে যুদ্ধ চলছে। গত বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে বিশেষ সামরিক অভিযান নামে আগ্রাসন শুরু করে রাশিয়া। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইউক্রেনের পক্ষ নিয়ে দেশটিকে অর্থ ও অস্ত্র সহায়তা দিয়ে আসছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্ররা। কিন্তু সম্প্রতি সেই অর্থ সহায়তা উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে।

সোমবার মার্কিন ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের মুখপাত্র জন কিরবি জানিয়েছেন, ইউক্রেনের জন্য সহায়তা তহবিলের ওপর আনা বিলের অর্থ ডিসেম্বরের পর শেষ হয়ে যাবে।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বাইডেন প্রশাসন এই মাসে ইউক্রেনে আরো একটি সামরিক সহায়তার প্যাকেজ ঘোষণা করার পরিকল্পনা করছে। কিন্তু মাস শেষ হয়ে গেলে এর কোনোটাই আর কাজে আসবে না। এজন্য বিলম্ব না করে এখনই কংগ্রেসকে সিদ্ধান্তে আসা প্রয়োজন।

পেন্টাগনের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল গ্যারন গার্নের মতে, সরাসরি ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহ করার জন্য পেন্টাগনের কাছে এখনো ৪.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রয়েছে। তবে মাস শেষে তা প্রায় শেষ হয়ে যাবে।

রোববার পেন্টাগন কম্পট্রোলার মাইক ম্যাককর্ড ক্যাপিটাল হিল আটকে পড়া ১১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তার বিষয়ে একটি চিঠিতে মার্কিন কংগ্রেসকে তাগাদা দিয়েছে। ব্লুমবার্গে প্রকাশিত সেই চিঠিতে ম্যাককর্ড লেখেন, ইউক্রেনকে সহায়তা করা প্রয়োজন আমাদের জাতীয় স্বার্থে। তারা যেন স্বাধীনতার জন্য লড়াই চালিয়ে যেতে পারে সেজন্য আমাদের সহায়তা করা প্রয়োজন।

প্রস্তাবিত অর্থের মধ্যে বাইডেন ৬১ বিলিয়ন ডলার চেয়েছিলেন ইউক্রেনকে সহায়তার জন্য। ইউক্রেনকে অর্থ দেওয়ার বিষয়ে জো বাইডেনের আরও যুক্তি ছিল, যদি যুক্তরাষ্ট্র দেশটির পাশে না দাঁড়ায়, তাহলে মস্কোর কাছে নতজানু হয়ে পড়বে কিয়েভ, যা ওয়াশিংটনের জন্য হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

ইউক্রেনের পাশাপাশি ইসরায়েলকে ১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ও তাইওয়ানকে সহায়তা তহবিল দেওয়ার কথা ছিল বাইডেন প্রশাসনের।

এদিকে আইনপ্রণেতারা ইউক্রেনের অর্থায়নের সাথে সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে আপাতত কোনো আলোচনায় বসছেন না। সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা চাক শুমার এই চুক্তিতে নিয়ে কথা বলার পরিবর্তে সিনেটরদের এই সপ্তাহে ফিরে আসতে বলেছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *