প্রয়োজন না হলে লাইট বন্ধ রাখা উচিত, কম বিদ্যুৎ ব্যবহারের আহ্বান জাপান সরকারের

এবার কম বিদ্যুৎ ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছে জাপান সরকার। রাজধানী টোকিও এবং এর আশেপাশের এলাকার লোকজনকে অপ্রয়োজনে বিদ্যুৎ খরচ না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। খবর বিবিসির।

স্থানীয় সময় সোমবার এই ঘোষণা দেওয়া হয়। দেশটিতে তাপপ্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহে চাপ বাড়তে পারে এমন আশঙ্কা থেকেই কর্তৃপক্ষ এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

দেশটির অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিদ্যুতের চাহিদা আরও বাড়তে পারে। এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, প্রয়োজন না হলে লাইট বন্ধ রাখা উচিত। এতে বিদ্যুত সাশ্রয় হবে। তবে হিটস্ট্রোক এড়াতে এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহার করা যাবে বলে জানানো হয়।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই রাজধানী ও এর আশেপাশের এলাকায় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। কর্মকর্তারা এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন যে, এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যুতের সংকট দেখা দিতে পারে।

টোকিওতে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে রেকর্ড করা হয়েছে। অপরদিকে রাজধানীর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইসেসাকি শহরে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। জুন মাসে রেকর্ড করা এটাই জাপানের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। দিনে তিন ঘণ্টা অপ্রয়োজনে লাইট বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কয়েকদিন আগেই অস্ট্রেলিয়াও একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। বিদ্যুৎ ঘাটতি মোকাবিলায় দেশটির নিউ সাউথ ওয়েলস প্রদেশের অধিবাসীদের ঘরের লাইট বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন দেশটির জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস বোয়েন। সে সময় তিনি জানান, যাদের সুযোগ রয়েছে প্রতি সন্ধ্যায় তাদের দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎ ব্যবহার থেকে বিরত থাকা উচিত। এতে বিদ্যুৎ ঘাটতি এড়ানো যাবে।

বিশ্বের অন্যতম কয়লা ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানিকারক দেশ অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু গত মাস থেকে দেশটি ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকটে ভুগছে। সেখানকার তিন-চতুর্থাংশ বিদ্যুৎ এখনও কয়লা ব্যবহার করে উৎপাদিত হয়। কিন্তু দেশটি পুনঃনির্মাণে বিনিয়োগ করে নির্গমন কমাতে যথেষ্ট কাজ করেনি বলে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে।

গত কয়েক সপ্তাহে কয়লা সরবরাহে ব্যাঘাত, বেশ কয়েকটি কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিভ্রাট এবং বৈশ্বিক জ্বালানি শক্তির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবের কারণে দেশটি বেশ সংকটে পড়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *