OMG! রেললাইনে আচমকা প্রবেশ করলো লরি, ফরাক্কায় দুর্ঘটনার কবলে উত্তরবঙ্গগামী এক্সপ্রেস

সোমবার ভোরে ফরাক্কা থানার বল্লালপুরে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে রাধিকাপুর এক্সপ্রেস। লরির সঙ্গে সংঘর্ষ এড়াতে চালকের তৎপরতায় বড় বিপদ থেকে রক্ষা পেলেন যাত্রীরা।

জানা গেছে, ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক থেকে গড়িয়ে রেল লাইনে চলে আসে একটি পণ্যবাহী লরি। এদিকে সেই সময় সময় ওই লাইন দিয়েই গন্তব্যের দিকে এগোচ্ছিল রাধিকাপুর এক্সপ্রেস। লোকো পাইলট লাইনের উপর লরি দেখে ব্রেক কষায় ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবল থেকে রক্ষা পেয়েছে ট্রেনটি।

যদিও এমার্জেন্সি ব্রেক কষার ফলে রাধিকাপুর এক্সপ্রেসের ইঞ্জিন লাইনচ্যুত হয়ে আগুন লেগে যায়। স্থানীয়রা দৌড়ে এসে উদ্ধার কাজে হাত লাগান। ঘটনায় হতাহতের কোনও খবর নেই।

ট্রেনের সমস্ত যাত্রীরাই নিরাপদে রয়েছেন। লরির চালক এবং খালাসি গাড়ি থেকে ঝাঁপ দেওয়ায় নিরাপদেই রয়েছেন।

ঘটনাস্থলে রয়েছে বিরাট পুলিশ বাহিনী এবং নিউ ফরাক্কা জিআরপি থানার পুলিশ সেখানে হাজির হন। ঘটনাস্থলে পৌঁছন রেলের আধিকারিকরা। লাইন থেকে দুর্ঘটনাগ্রস্ত ইঞ্জিনটি সরানোর কাজ তৎপরতার সঙ্গে শুরু হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব পরিষেবা সচল করার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অপর একটি ইঞ্জিন নিয়ে আসা হয় যাতে আপ রাধিকাপুর এক্সপ্রেস গন্তব্যস্থলে পৌঁছতে পারে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আপ রাধিকাপুর এক্সপ্রেস কলকাতা থেকে রাধিকাপুর যাচ্ছিল। ফরাক্কার বল্লালপুরে আচমকা রেল লাইনের উপর চলে আসে একটি লরি। তা দেখে দ্রুত এমার্জেন্সি ব্রেক কষেন রাধিকাপুর এক্সপ্রেসের চালক।

লরির চালক ঘুমিয়ে যাওয়ায় বা গাড়ির ব্রেক ফেল হওয়ায় কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। তবে লরির চালক পলাতক। তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালু করেছে পুলিশ।

এদিকে, দুর্ঘটনার পর লরির চালককে গ্রেফতার করার দাবিতে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয়রা। তাঁরা লরির চালককে গ্রেফতার না করা পর্যন্ত রেললাইন অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন।

ওই ট্রেনের যাত্রীরা আতঙ্কিত। অভিজিৎ মোদক নামক এক যাত্রী বলেন, ‘চালকের তৎপরতায় বহু যাত্রীর প্রাণ বেঁচেছে। কোনও যাত্রীর ক্ষতি হয়নি।’

অপর এক যাত্রী বলেন, ‘ঘটনার সময় ঘুমিয়ে ছিলাম। আচমকাই একটা ঝাঁকুনি অনুভব করলাম। প্রচণ্ড আওয়াজ। কী হয়েছে প্রথমে বুঝে উঠতে পারিনি। পরে বাইরে বেরিয়ে এবং সকলের কাছে ঘটনাটি শুনলাম। গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল।’

কয়েক মাস আগেই করমণ্ডল এক্সপ্রেস দুর্ঘটনায় রীতিমতো কেঁপে উঠেছিল গোটা দেশ। বহু মানুষ প্রাণ হারায়।

এই ঘটনার পর আবারও রেল নিরাপত্তার বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে।