‘কোনও অন্যায় নেই’,- অসমের বিহু উৎসবের কর বিতর্কে সাফাই দিলেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত

অসমে বিহু সহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক শোভাযাত্রা ও রাজনৈতিক সভা করতে হলে এখন থেকে দিতে হবে কর। এই নিয়ে নতুন কর নীতি ঘোষণা করেছে অসম সরকার। এই কর নীতির বিরুদ্ধে অসমের বিরোধী দলগুলি তীব্র সমালোচনা করেছে।

অসমের প্রশাসন নতুন কর নীতি নির্ধারণ করে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। ওই নোটিশ অনুসারে, অসম এখন সাংস্কৃতিক শোভাযাত্রা যে কোনওরকম রাজনৈতিক অনুষ্ঠান করার জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ কর দিয়ে অনুমতি নিতে হবে। বিহুর অনুষ্ঠান করার জন্যেও অনুমতি নিতে হবে। এজন্য দিতে হবে ৩০০ টাকা।

অসমের প্রধান উৎসব বিহু। এই বিহুকে এখন বিশ্বের দরবারে আরও বেশি করে তুলে ধরতে চাইছ হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। সেখানেই এবার থেকে বিহুর জন্য কর দিতে জানার পরেই ক্ষুব্ধ অসমের বাসিন্দারা। সেই সঙ্গে অসমের মুখ্যমন্ত্রীর তীব্র সমালোচনা করেছে অসমের কংগ্রেস এবং তৃণমূল কংগ্রেস।

কংগ্রেস নেতা ভূপেন বরা বলেন, “বিহুর জন্য কর নেওয়ার মানে হল অসমের সংস্কৃতিকে অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করা। এটা অসমবাসীর সঙ্গে প্রতারণা।”

তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা রিপুন বরা বলেন, “বিহু অসমের ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্যকে বাঁচানোর জন্য কর নেওয়ার কোনও মানে নেই। এটা বিরোধী দলগুলিকে দমন করার এক ষড়যন্ত্র।”

এই সমালোচনার জবাবে বুধবার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তিনি বলেন, “বিহুর অনুষ্ঠানের জন্য যে কর নেওয়া হচ্ছে তা শুধুমাত্র প্রক্রিয়াকরণের জন্য। এই কর থেকে রাজ্য সরকারের রাজস্ব আয় হবে। সেই অর্থ দিয়ে আমরা ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক উৎসবগুলিকে আরও ভালোভাবে আয়োজন করতে পারব।”

তিনি আরও বলেন, “বিহু কমিটিগুলি সরকারের কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা করে অনুদান পায়। তাহলে ৩০০ টাকা করে কর দেওয়ার জন্য তাদের কেন আপত্তি? এটা তো আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতিকে রক্ষা করার জন্য।”

এই বিতর্কের মধ্যেই অসমের সরকার রাসের জন্যও অর্থ বরাদ্দ করেছে। ৩ হাজার জায়গায় রাসের জন্য ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *