বুড়িমা থেকে সোনা মা! বাংলায় হরেক নামে পূজিত হন জগদ্ধাত্রী, কেন জানেন?

জগদ্ধাত্রী দেবী হিন্দুধর্মের অন্যতম প্রধান দেবী। তিনি সৃষ্টির নিয়ন্তা এবং অসুরদের বিনাশী। বাংলায় জগদ্ধাত্রী দেবীর পূজা বিশেষভাবে জনপ্রিয়। এই পূজায় দেবীকে নানা নামে ডাকা হয়।
জগদ্ধাত্রী দেবীর বিভিন্ন নামের কারণ
জগদ্ধাত্রী দেবীর বিভিন্ন নামের কারণ বিভিন্ন। কিছু নাম দেবীর গুণাবলী বা কার্যাবলীর উপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়েছে। যেমন,
জগদ্ধাত্রী: এই নামের অর্থ “জগতের অধিষ্ঠাত্রী”। দেবী জগৎকে রক্ষা করেন বলে তাঁকে এই নামে ডাকা হয়।
করীন্দ্রাসুরনিসূদিনী: এই নামের অর্থ “করীন্দ্রাসুরকে বধকারী”। প্রচলিত বিশ্বাস অনুসারে, দেবী জগদ্ধাত্রী করীন্দ্রাসুর নামক অসুরকে বধ করেছিলেন।
মহামায়া: এই নামের অর্থ “মহাশক্তি”। দেবী জগৎের সকল শক্তির উৎস বলে তাঁকে এই নামে ডাকা হয়।
অন্য কিছু নাম দেবীর রূপ বা বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়েছে। যেমন,
ত্রিনয়নী: এই নামের অর্থ “তিন চোখ বিশিষ্ট”। দেবীর তিনটি চোখ ত্রিগুণাবলী– সত্ত্ব, রজস এবং তমসের– প্রতিনিধিত্ব করে।
অষ্টভুজা: এই নামের অর্থ “আট হাত বিশিষ্ট”। দেবীর আটটি হাত তাঁর আটটি শক্তির প্রতিনিধিত্ব করে।
চতুর্ভুজা: এই নামের অর্থ “চার হাত বিশিষ্ট”। দেবীর চারটি হাত তাঁর চারটি মুখের প্রতিনিধিত্ব করে।
এছাড়াও, কিছু নাম দেবীর পূজার স্থান বা সময়ের উপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়েছে। যেমন,
বড়মা: এই নামটি বাংলার বাঁকুড়া জেলায় প্রচলিত। বাঁকুড়ায় জগদ্ধাত্রী পূজাকে বড়মা পুজো বলা হয়।
শীতকালীন জগদ্ধাত্রী: এই নামটি উত্তর ভারতে প্রচলিত। উত্তর ভারতে শীতকালে জগদ্ধাত্রী পূজা করা হয় বলে তাঁকে এই নামে ডাকা হয়।
আজও পর্যন্ত কোথাও জলেশ্বরী, কোথাও অন্ন মাতা, কোথাও বাঘা মা, কোথাও আবার রুদ্রানী মা, সোনা মা, শান্ত মা এভাবেই কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রীর নামকরণ চলে আসছে।
জগদ্ধাত্রী দেবীর বিভিন্ন নামের কারণ বিভিন্ন। এই নামগুলি দেবীর গুণাবলী, কার্যাবলী, রূপ, বৈশিষ্ট্য, পূজার স্থান বা সময়ের উপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়েছে।