নিয়োগ দুর্নীতি মামলা: এবার ED-কেই নোটিস ইস্যু করল সুপ্রিম কোর্ট, শুরু শোরগোল

গত বছরের জুলাই মাসে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়, তৃণমূলের বহু নেতা-বিধায়ক সহ শিক্ষা দফতরের একাধিক আধিকারিক। এরপর থেকে তারা জেলেই রয়েছেন। একই মামলায় গ্রেফতার হন প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি তথা তৃণমূল বিধায়ক মানিক ভট্টাচার্য এবং তার ছেলে সৌভিক ভট্টাচার্য। তারাও বর্তমানে জেলে রয়েছেন।
সম্প্রতি জামিনের আবেদন করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন মানিকের ছেলে সৌভিক ভট্টাচার্য। গতকাল, ১৯ নভেম্বর, দেশের শীর্ষ আদালতে বিচারপতি বেলা এম ত্রিবেদী ও বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মার এজলাসে এই মামলার শুনানি হয়। এরপরই সৌভিকের জামিন আবেদনের প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটকে (ED) নোটিস ইস্যু করল সুপ্রিম কোর্ট।
শুনানিতে সৌভিকের আইনজীবী মুকুল রোহতগি গ্রেফতারের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশ ছাড়াই সৌভিকের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়াও, সৌভিকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনও প্রমাণ নেই বলেও তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে, ইডির আইনজীবী বলেন, সৌভিক ভট্টাচার্য রাজ্যের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। পাশাপাশি একটি ক্লাবের আর্থিক লেনদেনেও তিনি জড়িত বলে ইডির কাছে তথ্য রয়েছে। তাই তার জামিন মঞ্জুর করা হলে তদন্ত ব্যাহত হতে পারে।
সুপ্রিম কোর্ট ইডিকে আগামী ২৩ নভেম্বরের মধ্যে সৌভিকের বিরুদ্ধে থাকা তথ্যাদি জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে। এরপরই জামিনের আবেদনের ওপর শুনানি হবে।
উল্লেখ্য, নিয়োগ মামলায় গত ফেব্রুয়ারি মাসে মানিক ভট্টাচার্যের স্ত্রী শতরূপা ভট্টাচার্য ও ছেলে সৌভিককে হেফাজতে নেয় ইডি। এরপর তাদের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। যদিও জামিন চেয়ে আবেদন করায় ৭ অগস্ট শতরূপা শর্তসাপেক্ষ জামিন পেয়ে যান। মায়ের পর এবার জামিন পেতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ সৌভিক।