উত্তরকাশীর সুড়ঙ্গে পৌঁছনোর উপায় ৩৪ বছর আগের যন্ত্রে? আশায় বুক বাঁধছে সকলে

উত্তরকাশীর নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গের ধসে আটকে পড়া ৪১ জন শ্রমিকের উদ্ধারে ‘মিশন রানিগঞ্জ’-এর ড্রিল মেশিনের খোঁজ নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত বলিউড সিনেমা ‘মিশন রানিগঞ্জ’-এর মাধ্যমে সেই ঘটনার কথা এখন অনেকেরই জানা। সেবার শ্রমিকদের উদ্ধারে ব্যবহার করা ড্রিল মেশিনের হাল-হকিকত জানতে কোল ইন্ডিয়া মারফত ইসিএলের কাছ থেকে তথ্য চেয়েছে কয়লা মন্ত্রক।

গত ১২ নভেম্বর ভোরে উত্তরকাশীতে নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গের একটি অংশ ভেঙে পড়ে। এতে আটকে পড়েন ৪১ জন শ্রমিক। উদ্ধারকাজের জন্য ইতিমধ্যে দু’টি অগার মেশিন কাজ করছে। রবিবার ঘটনাস্থলে যান কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও হাইওয়েজ়-মন্ত্রী নীতিন গড়কড়ি। তিনি বলেন, মেশিন দু’টি ঠিকঠাক কাজ করলেই আটকে পড়া শ্রমিকদের কাছে আগামী দু’-আড়াই দিনে পৌঁছানো যাবে।

উদ্ধারকাজের জন্য বিশেষ ধরনের একাধিক যন্ত্রও আনানো হচ্ছে বলে জানান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। এর পর রবিবার রাতেই কোল ইন্ডিয়ার অন্যতম ডিরেক্টর অনিলকুমার রানা ইসিএলের সদর দপ্তরে যোগাযোগ করেন। আসানসোল মহকুমার শাকতরিয়ায় ইসিএলের ডিরেক্টর নীলাদ্রি রায় বলেন, “রাতেই কোল ইন্ডিয়ার এক ডিরেক্টর ফোন করেছিলেন। তিনি জানিয়েছেন এ ব্যাপারে সরাসরি ইসিএলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে কয়লা মন্ত্রকের তরফে।”

১৯৮৯ সালের ১৩ নভেম্বর রানিগঞ্জের মহাবীর কোলিয়ারিতে খনির ভেতরে জল ঢুকে ৭১ জন শ্রমিক আটকে পড়েন। সেই দুর্ঘটনার ৩ দিন পর ভূগর্ভ থেকে প্রায় ৮৬ মিটার গভীর থেকে স্টিলের তৈরি ক্যাপসুল লিফ্টে করে ৬৫ জন খনিকর্মীকে উপরে তুলে নিয়ে এসেছিলেন তদানীন্তন চিফ মাইনিং ইঞ্জিনিয়ার যশোবন্ত সিং গিল। এই রেসকিউ অপারেশনে ক্যাপসুল লিফ্টগুলি নামানোর জন্য ড্রিল করতে কোন মেশিন ব্যবহার করা হয়েছিল তারই খোঁজ চাইছে কয়লা মন্ত্রক।

নীলাদ্রি রায় আরও বলেন, “কোল ইন্ডিয়ার ডিরেক্টর যা যা জানতে চেয়েছিলেন সবটাই জানিয়েছি। এবং ওই বিশেষ ড্রিল মেশিন আসানসোলের যে বেসরকারি সংস্থা সরবরাহ করেছিল তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। বাকিটা কোল ইন্ডিয়া বা কয়লা মন্ত্রক করবে।”

এই খবরের পর আশার আলো দেখছেন অনেকেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘মিশন রানিগঞ্জ’-এর ড্রিল মেশিন উত্তরকাশীর ধসে আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে কাজে লাগতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *