SPORTS: ‘অপ্রতিরোধ্য’ ভারতের পঞ্চরত্ন-যারা একাই বদলে দিতে পারেন ম্যাচের ফলাফল

যাত্রা ভঙ্গ হওয়া নাকি অশুভ লক্ষণ! কথাটা কতটুকু সত্য কিংবা এর যথার্থতা আদৌ আছে কিনা সেই ব্যাখ্যায় না গেলেও একদিনের ক্রিকেটে এই যাত্রাটা চমৎকার হওয়া চাই। চলমান বিশ্বকাপে ভারতের দুর্বার ছুটে চলার পেছনে এই যাত্রা ভালোর অনেক প্রভাব রয়েছে। ক্রিকেটীয় ভাষায় যা টপ অর্ডারের সফলতা। ভারত কিন্তু কেবল টপ নয় বোটমেও দারুণ করছে। তবে এই দলটিতে এমন পাঁচজন ক্রিকেটার আছেন যারা কিনা তাদের ব্যাটিংয়ের পঞ্চরত্ন।
রোহিত শর্মা
প্রতিপক্ষ বোলারদের দুঃস্বপ্নের নাম। হয়তো এটাই তার শেষ বিশ্বকাপ। এই শেষের ঘরে দাঁড়িয়ে তিনি ছুটছেন বিদ্যুৎ গতিতে। তার দিনে যত তারকা বোলারই হোক না কেন খুব সুবিধা করতে পারেন না। চলমান আসরে রোহিতের এই ‘আগুন’ ফর্ম ভারতের জন্য দারুণ বড় স্বস্তির। এরই মধ্যে ১০ ম্যাচে ৫৫০ রান করেছেন। যেখানে এক সেঞ্চুরির সঙ্গে রয়েছে তিনটি হাফ সেঞ্চুরি। দলের জন্য রোহিতের অবদানটা বেশ কার্যকর। খুব একটা বড় ইনিংস না খেললেও ধারাবাহিক পারফর্ম করে যাচ্ছেন তিনি। তাছাড়া খুব বেশি বলও খরচ করেন না। যতক্ষণ পিচে থাকেন রান করে যান। ইমপ্যাক্ট ইনিংস যাকে বলে। সর্বশেষ সেমিফাইনালে তেমনি এক ঝলক দেখা গেছে তার ব্যাটে। কিউইদের সঙ্গে ২৯ বলে ৪৭ রানের ইনিংস খেলে সাজঘরের পথ ধরেন ‘হিটম্যান’ খ্যাত এ ব্যাটার।
শুভমান গিল
মাঠ এবং মাঠের বাইরে সমানভাবে তাকে নিয়ে আলোচনা। শুভমানের সঙ্গে ভারতীয় কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকারের মেয়ে সারা টেন্ডুলকারের প্রেম, এই আলোচনা খানিকটা ওপেন সিক্রেট। কিন্তু বিশ্বকাপ শুরুর পর সেই প্রেম যেন জমে ক্ষীর! প্রায় ম্যাচেই গ্যালারিতে উপস্থিত হচ্ছেন সারা। প্রিয় মানুষকে উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছেন। আর ক্যামেরা তার দিকে নজর দিতেই সাধারণ দর্শকদের ‘ভাবি, ভাবি’ বলে চিৎকার শুরু হয়ে যায়। এদিকে শুভমানও ছুটছেন সেই আলোক রেখে ধরে। ঠান্ডা মাথায় একের পর এক ইনিংস উপহার দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সেমির মঞ্চেও তার ব্যাট রান এনেছে। রিটায়ার্ড হার্ট হওয়ার আগে স্কোরবোর্ডে ৮০ রান জমা করে দেন। সবমিলিয়ে এই বিশ্বকাপে শুভমানের মোট রান ৩৫০। যার একটি ৯২ রানের ইনিংস।
বিরাট কোহলি
বিরাট কোহলিকে নিয়ে নতুন করে আর কী বা বলার আছে। পরীক্ষীত একজন ব্যাটার তিনি। দল যে পরিস্থিতিতে থাকুক না কেন তিনি যতক্ষণ উইকেটে থাকবেন নো প্রবলেম। যে করেই হোক গন্তব্যে ঠিকই নোঙর করবেন। চাপের মধ্যেও সুন্দর সাবলীল ব্যাটিংটা করে যেতে পারেন তিনি। আর রান চেজে তো রীতিমতো মাস্টার। এইতো সেমিতে সেঞ্চুরি করে ছাড়িয়ে গেছেন একদিনের ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশিবার শতক হাঁকানো শচীন টেন্ডুলকারের রেকর্ড। এখন ঝুলিতে কোহলির সেঞ্চুরি ৫০টি। হয়তো ফাইনালে এই ঘরটাও ছাড়িয়ে যেতে পারেন তিনি।
কেএল রাহুল
ভীষণ ভদ্রলোক, আপাদমস্তকে একজন ভালো মানুষ! না আমি বলছি না, ক্রিকেটের বোদ্ধারা এই লোকেশ রাহুলকে নিয়ে এমন কথাই বলে থাকেন। ২০১৯ বিশ্বকাপে দারুণভাবে এগিয়ে চলা ভারতকে থামতে হয় সেমিতে। এর পেছনে অন্যতম বড় কারণ মিডল অর্ডারে ব্যর্থতা। শেষ ৪ বছরেও সেই ব্যর্থতাকে পুরোপুরি মুছে ফেলা গিয়েছিল তেমনটিও নয়। বিশ্বকাপ শুরুর আগে অধিনায়ক রোহিত শর্মা তো এক রকম স্বীকারই করে নেন যুবরাজ সিংয়ের পর তার জায়গায় যে যোগ্য উত্তরসূরি হতে পারেননি আর কেউই। তবে এশিয়া কাপ থেকে শুরু করে বিশ্বকাপের মঞ্চ পর্যন্ত ভারতের সেই মিডল অর্ডার নিয়ে দুশ্চিন্তার মেঘ যেন অনেকটাই কেটে গেছে এই রাহুলের বদৌলতে। ব্যাটিং অর্ডার বদলেও সফল তিনি। ওপেনিংয়ে লোকেশ রাহুলের ব্যাটিং গড় চল্লিশ পেরিয়ে ৪৩.৫৭। কিন্তু লোকেশ রাহুল যখন মিডল অর্ডার ব্যাটার হয়ে উঠলেন তখন গড় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৮.৭৮-এ। এই বিশ্বকাপে তো ৭২.২০ গড়ে ৩৮৬ রান করেই ফেললেন।
শ্রেয়স আইয়ার
খুবই ডেডিকেটেড একজন ব্যাটার শ্রেয়স আইয়ার। অনেকটা নীরবে নিভৃতে আলো জ্বালিয়ে যাচ্ছেন। ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরি দিয়ে এরই মধ্যে নিজের দক্ষতা আরেকবার জানান দেন তিনি। যেকোনো পরিস্থিতিতেই ড্রেসিরুমের ভরসা হওয়ার সামর্থ্য রয়েছে তার। একেবারে আদর্শ মিডল অর্ডার ব্যাটার বলতে যা বোঝায়। যদিও বিশ্বকাপে শুরুটা ভালো হয়নি তার। সেজন্য কম কথা শোনেননি। কিন্তু সব মুখ বন্ধ করেছেন একের পর এক চমৎকার ইনিংস দিয়ে৷ তার ব্যাটিং কারিশমায় মুগ্ধ সুনীল গাভাস্কারও।
আইয়ারকে নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘আইয়ারের শট দেখলে মনে হয় সে রজার ফেদেরার, নোভাক জকোভিচদের মত টেনিসে ফোরহ্যান্ড শট খেলছে। দারুণ বুদ্ধিদীপ্ত ব্যাটিং।’ গাভাস্কার আসলে যথার্থই বলেছেন। আইয়ারের ব্যাট যেন রঙ তুলি। চলমান আসরে ১০ ম্যাচে ৫২৬ রান করে ফেলেছেন তিনি।