দাদা দেশের প্রধানমন্ত্রী, চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রীর ভাই দ্বারস্থ রেশন ডিলারদের

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ছোটভাই প্রহ্লাদভাই দামোদরদাস মোদী কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য সাহায্য চাইছেন। তিনি পেশায় একজন রেশন ডিলার। কয়েক মাস আগে দুর্ঘটনার পর তাঁর দু’টো কিডনিই নষ্ট হয়ে গেছে। চিকিৎসকরা তাঁকে কিডনি প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দিয়েছেন। এর জন্য প্রায় এক কোটি টাকার মতো খরচ হবে। তাই তিনি রেশন ডিলারদের কাছে সাহায্য চাইছেন।
প্রহ্লাদভাই অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলার্স ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট। তাই তিনি ফেডারেশনের নেতাদের কাছে হোয়াটসঅ্যাপ পাঠিয়ে সতীর্থদের কাছেই সাহায্য চাইছেন। টাকা পাঠানোর জন্য নিজের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ডিটেলস এবং ইউপিআই স্ক্যান আইডিও পাঠিয়ে দিয়েছেন।
প্রহ্লাদভাই বলেন, “এখন আমাকে সপ্তাহে দু’বার করে ডায়ালিসিস করাতে হচ্ছে। ডাক্তাররা বলেছেন, দু’টো কিডনিই প্রতিস্থাপন করতে হবে। আমাদের দেশের যা আইনকানুন, তাতে কিডনি প্রতিস্থাপনের অনুমতি পেতে মাস ছয়েক সময় লাগবে। তাই আমাকে সিঙ্গাপুরে গিয়ে কিডনি প্রতিস্থাপন করিয়ে আসতে হবে।”
প্রধানমন্ত্রীর ভাই হয়ে অন্যের কাছে টাকা চাইতে খারাপ লাগছে না? প্রহ্লাদভাইয়ের জবাব, “প্রধানমন্ত্রীর ভাই হলেও আমি দেশের একজন সাধারণ নাগরিক। আমার জন্য সরকার আলাদা ব্যবস্থা করতে যাবে কেন? এটা আমার নিজের সমস্যা। এর সঙ্গে দাদাকে জড়ানো ঠিক হবে না।”
রেশন ডিলার সংগঠনের নেতাদের দাবি, দাদা প্রধানমন্ত্রী হলেও প্রহ্লাদভাই বরাবরই নিজেকে রেশন ডিলার হিসাবে পরিচয় দিতেই ভালবাসেন। রেশন ডিলারদের বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে তিনি একাধিকবার কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করতেও পিছপা হননি। তাই নিজের চিকিৎসার জন্য দাদার কাছ থেকে কোনও বাড়তি সুবিধা নিতে নারাজ তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর ভাইকে যে অবস্থার মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে, তার প্রেক্ষিতে তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, “মানুষের অসুস্থতা নিয়ে কোনও রাজনৈতিক মন্তব্য করতে চাই না। কিন্তু উনি বিদেশে চিকিৎসা করানোর জন্য যে পদ্ধতিতে অর্থ সংগ্রহ করছেন, তাতে এটাই স্পষ্ট হয়, দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর প্রধানমন্ত্রীর ভাইয়ের কোনও আস্থা ও বিশ্বাস নেই।”
বিজেপি মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্যের অবশ্য যুক্তি, “প্রধানমন্ত্রী যে পরিবারের (পড়ুন সঙ্ঘ পরিবার) সদস্য, সেখানে এটাই সংস্কৃতি। এই কারণেই উনি আজ এই উচ্চতায় উঠতে পেরেছেন। নরেন্দ্র মোদীর ব্যক্তিগত জীবন এবং তাঁর সততা প্রশ্নাতীত। এটা তার অন্যতম উদাহরণ। আমরা চাইব, প্রহ্লাদভাই তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠুন।”
প্রধানমন্ত্রীর ভাই প্রহ্লাদভাই কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য সাহায্য চাইছেন। তাঁর অবস্থায় অনেকেই সহানুভূতিশীল। কিন্তু কেউ কেউ দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর তাঁর আস্থার অভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।