বিশেষ: মাত্র কয়েকবছরেই ঘটে মৃত্যু! ভারতের এই রাজ্যের বাসিন্দাদের আয়ু সবচেয়ে কম

বিশ্বের সর্বাধিক জনসংখ্যার দেশ ভারত। কিন্তু এই দেশেই এমন অনেক রাজ্য রয়েছে যেখানে বাসিন্দাদের গড় আয়ু তুলনামূলকভাবে কম। মাত্র কয়েকবছরের মধ্যেই এই রাজ্যগুলির বাসিন্দাদের জীবনে পড়ে দাঁড়ি।
২০১৯ সালে গ্লোবাল ডেটা ল্যাব সমীক্ষা চালিয়ে সংগ্রহ করেছে তথ্যগুলি। সেই সমীক্ষা অনুসারে, ভারতে মানুষের গড় আয়ু ৬৯.৭ বছর। কিন্তু এই পরিসংখ্যান উপরে উল্লিখিত পাঁচটি রাজ্যের থেকে বেশি।
এই পাঁচটি রাজ্যে মানুষের গড় আয়ু ৬৫.৭ থেকে ৬৮.৭ বছরের মধ্যে। অর্থাৎ, এই রাজ্যগুলির বাসিন্দাদের গড় আয়ু ভারতের গড় আয়ুর তুলনায় কম।
এই পাঁচটি রাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে কম আয়ুর রাজ্য হল উত্তর প্রদেশ। সেখানে প্রতি বাসিন্দার গড় আয়ু মোট ৬৫.৭ বছর। এরপরেই রয়েছে ছত্তিশগড়, রাজস্থান, মধ্য প্রদেশ এবং বিহার।
এই রাজ্যগুলির বাসিন্দাদের গড় আয়ু কম হওয়ার পিছনে অনেকগুলি কারণ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হল কোভিড-১৯ মহামারী। কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে ভারতে প্রায় ৫০ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এই মৃত্যুর প্রভাব মানুষের গড় আয়ুতে পড়েছে।
কোভিড-১৯ ছাড়াও, অপুষ্টি, অশিক্ষা, দারিদ্র্য, সংঘাত এবং শিশু মৃত্যুর মতো কারণগুলিও মানুষের গড় আয়ু কমাতে ভূমিকা পালন করছে।
ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যে অপুষ্টির হার সবচেয়ে বেশি। ২০১৯ সালের একটি সমীক্ষা অনুসারে, উত্তর প্রদেশে ২৩% শিশু অপুষ্ট। অপুষ্টির কারণে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। ফলে তারা সহজেই বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয় এবং মৃত্যুবরণ করে।
শিক্ষার অভাবও মানুষের গড় আয়ু কমাতে ভূমিকা পালন করে। শিক্ষিত মানুষ স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন সম্পর্কে বেশি জানে। ফলে তারা সুস্থ থাকে এবং বেশিদিন বাঁচে।
দারিদ্র্যও মানুষের গড় আয়ু কমাতে ভূমিকা পালন করে। দরিদ্র মানুষদের স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের সুযোগ কম থাকে। ফলে তারা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয় এবং মৃত্যুবরণ করে।
সংঘাতও মানুষের গড় আয়ু কমাতে ভূমিকা পালন করে। সংঘাতের কারণে মানুষকে তাদের আবাসস্থল ছেড়ে যেতে হয়। এর ফলে তারা খাদ্য, জল এবং স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। ফলে তাদের গড় আয়ু কমে যায়।
শিশু মৃত্যুর হারও মানুষের গড় আয়ু কমাতে ভূমিকা পালন করে। শিশু মৃত্যুর হার বেশি হলে জনসংখ্যার গড় বয়স কমে যায়। ফলে গড় আয়ুও কমে যায়।
ভারতের সরকার এই সমস্যাগুলি সমাধানের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। কিন্তু এই সমস্যাগুলি সমাধানে আরও অনেক কিছু করা প্রয়োজন।