চিনের রকেটে ‘আহত’ চাঁদ, আছড়ে পড়তেই চাঁদের মাটিতে ২৯ মিটার চওড়া জোড়া গর্ত

কয়েক বছর ধরে মহাকাশে ঘুরতে থাকা চিনের একটি রকেটের অবশিষ্টাংশ ২০২২ সালের ৪ মার্চ চাঁদের মাটিতে আঘাত হানে। প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কিলোমিটার গতিতে আঘাত হানে রকেটের অবশিষ্টাংশ। বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি চাঁদের ওই ক্ষতগুলি আবিষ্কার করেছেন।

চাঁদের ওই ক্ষতগুলি দুটি ২৯ মিটার চওড়া গর্তের সৃষ্টি করেছে। গবেষকরা মনে করেন, চিনের ‘লং মার্চ থ্রি-সি’ রকেটের তৃতীয় ও সবচেয়ে উঁচু পর্যায়ের অংশটি আঘাত হেনেছে চাঁদের বুকে। ২০১৪ সালে চ্যাংই-৫- টি-ওয়ান মিশনের অধীনে এই রকেটটি মহাকাশে পাঠিয়েছিল চিন।

চিনের মহাকাশ সংস্থা এই দাবি অস্বীকার করে আঙুল তোলে মার্কিন সংস্থা স্পেস-এক্সের দিকে। ২০১৫ সালে স্পেস-এক্সের একটি মহাকাশযানও মহাশূন্যে দুর্ঘটার শিকার হয়েছিল। তারও ধ্বংসাবশেষও শূন্যেই ভেসে বেড়াচ্ছে। তবে এটি যে সেই রকেটের অংশ নয় তা দীর্ঘ পর্যবেক্ষণের পর নিশ্চিত করে স্পেস এক্স।

এই ঘটনার ফলে মহাকাশে মহাকাশ বর্জ্যের সমস্যা আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, একদিন এই মহাকাশ বর্জ্য মহাকাশ গবেষণার জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।

চাঁদের গর্ত সম্পর্কে নতুন তথ্য

গবেষণায় দেখা গিয়েছে, চাঁদের মাটিতে তৈরি হওয়া গর্তগুলির মধ্যে একটির গভীরতা প্রায় ১০ মিটার। অন্য গর্তটির গভীরতা প্রায় ৮ মিটার। গর্তগুলির আকৃতিও বেশ গোলাকার।

গবেষকরা মনে করেন, চাঁদের মাটিতে আঘাত হানার সময় রকেটের অবশিষ্টাংশটি প্রায় ৯০ ডিগ্রি কোণে আঘাত হেনেছিল। তাই গর্তগুলির আকৃতি গোলাকার হয়েছে।

চাঁদের মাটিতে আঘাত হানা রকেটের অবশিষ্টাংশটি এখনও একটি রহস্য। চিন এবং স্পেস এক্স দুটি সংস্থাই দাবি করে যে, রকেটের অবশিষ্টাংশটি তাদের নয়।

এই ঘটনার ফলে মহাকাশে মহাকাশ বর্জ্যের সমস্যা নিয়ে আলোচনা আরও জোরদার হয়েছে। বিজ্ঞানীরা চাইছেন, মহাকাশে মহাকাশ বর্জ্য ট্র্যাক করার জন্য একটি ব্যবস্থা করা হোক।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *