হাতির তাণ্ডবে প্রাণ গেল ৪ গ্রামবাসীর, বনদফতরের গাফিলতিতে ক্ষোভ

কোচবিহারের দিনহাটা ও মাথাভাঙায় হাতির তাণ্ডবে চার প্রাণহানি হয়েছে। শুক্রবার সকালে মাথাভাঙার পারাডুবি গ্রামে জমিতে ঘাস কাটতে গিয়ে হাতির হানায় প্রাণ হারান বুদ্ধেশ্বর অধিকারী। দুপুরে জমিতে কাজ করার সময়ে হাতির হামলার মুখে পড়ে প্রাণ যায় আনন্দ প্রামাণিকের।
পারাডুবি গ্রামের মাঠে দু’জনের মৃত্যু পরে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন গ্রামবাসীরা। তাঁরা দলবদ্ধ হয়ে হাতিদের তাড়াতে শুরু করেন। গ্রামবাসীদের তাড়া খেয়ে দু’ দলে ভাগ হয়ে ৪টি হাতি চলে যায় ঘোকসাডাঙার উনিশবিশা গ্রামের দিকে৷ একটি হাতি দলছুট হয়ে ঘোকসাডাঙা স্টেশনের প্লাটফর্মের দিকে ছুটতে থাকে। পরে ঘোকসাডাঙার উনিশবিশা গ্রামের বাজারের দিকে আসা দুই মহিলা রেখারানি রায় ও জয়ন্তী সরকারকে পিষে দেয় একটি হাতি।
বনদফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, পাতলাখাওয়া হয়ে ৬টি হাতি বুধবার রাতে চলে আসে কোচবিহারের দিকে। বৃহস্পতিবার সকালে হাতিগুলিকে দেখা গিয়েছিল কোচবিহার ১ ব্লকের হাড়িভাঙা গ্রামে৷ এরপর হাতির দল চলে যায় দিনহাটার মাতালহাট গ্রামে। সেখানেও হরেন বর্মন নামে গ্রামবাসী হাতির হামলায় আহত হন। বৃহস্পতিবার দিনভর হাতির দল দাঁপিয়ে বেরিয়েছিল মাতালহাট গ্রামে৷ তাদের বনাঞ্চলে ফেরাতে দিনভর চেষ্টা চালান জলদাপাড়া ও কোচবিহারের বনবিভাগের কর্মীরা।
মৃতের পরিবারের দাবি, বনকর্মীরা হাতিগুলিকে নির্জন এলাকা দিয়ে জঙ্গলে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নিলে এই প্রাণহানি ঘটত না। বনদফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হাতির দলকে জঙ্গলে ফেরত পাঠানোর জন্য সবরকম চেষ্টা চলছে।