OTP ছাড়াই অ্যাকাউন্ট থেকে গায়েব হবে টাকা! প্রতারণার নয়া ফাঁদ

অনলাইনে কেনাকাটার সময় ওটিপি না দেওয়াই ভালো, কিন্তু শুধু তাই করলেই নিরাপদ থাকা যাবে না। প্রতারকরা নতুন কৌশল অবলম্বন করে ব্যাক ডোর দিয়েও প্রবেশ করতে পারে।
দক্ষিণ কলকাতার ব্যবসায়ী বিজয় চট্টোপাধ্যায়ের ঘটনাই তার প্রমাণ। তিনি একটি ই-কমার্স সাইট থেকে একটি বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম অর্ডার করেছিলেন। প্রায় এক সপ্তাহ বাদে ক্যুরিয়ারের মাধ্যমে তাঁর দোকানের ঠিকানায় ওই অর্ডারটি সরবরাহ করার জন্য ফোন আসে।
ক্যুরিয়ারের কর্মীকে দ্রুত আসতে বলেন বিজয়বাবু। কিন্তু ক্যুরিয়ারের ডেলিভারি বয় আসেননি। প্রায় চার ঘণ্টা অপেক্ষা করে তিনি দোকান থেকে বেরিয়ে ধর্মতলায় অন্য একটি জরুরি কাজে যান। মিনিট পনেরো-র মধ্যে তাঁর মোবাইলে অন্য একটি নম্বর থেকে ফোন আসে।
ফোনকারী বলে, “আপনার দোকানে আমাদের সংস্থার পক্ষ থেকে ক্যুরিয়ার বয় গিয়েছিলেন। আপনি না থাকায় প্যাকেটটি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে চাইলে বিকল্প একটি ব্যবস্থার মাধ্যমে ডেলিভারি পাওয়া যেতে পারে। রাজি থাকলে এখনই জানান।”
বিজয়বাবু রাজি হন। ফোনকারী তাকে বলে, “মোবাইলে একটা কোড নম্বর আপনাকেই টাইপ করতে হবে। তা হলে সিস্টেমে সেটি কনফারমেশন হিসেবে শো করবে।”
বিজয়বাবু কোড নম্বরটি জানতে চান। ফোনকারী বলে, “401 এটা টাইপ করে নিজের দশ ডিজিটের নম্বরটি পাশে লিখে দিন।”
বিজয়বাবু সেটি করতে যেতেই আচমকা তাঁর ফোন বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় ঘণ্টাখানেক বাদে দোকানে ফিরে তিনি অনলাইনে ওই ক্যুরিয়ার সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করার আগে কোড নম্বরটি গুগলে সার্চ দিয়ে চেক করতে গিয়ে চমকে ওঠেন।
সেখানে স্পষ্ট বলা রয়েছে, ওই কোড নম্বরটি কল ফরওয়ার্ড করতে ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ কেউ চাইলে আপনার নম্বর থেকে কোড ডায়াল করে নিজের নম্বরে কল ফরওয়ার্ড করে নিতে পারবেন।
বিজয়বাবুর মোবাইল নম্বর যতটা সময় ধরে চার্জ চলে যাওয়ার কারণে বন্ধ ছিল, তার আগে তিনি কোড ডায়াল করলেই সব টাকা অ্যাকাউন্ট ফাঁকা করে চলে যেত প্রতারকদের খাতায়।
পরে ক্যুরিয়ার সংস্থার দফতরে যোগাযোগ করলে ব্যবসায়ীকে জানানো হয়, তাঁর অর্ডার দেওয়া জিনিসটি এখনও সংশ্লিষ্ট সংস্থা থেকে পাঠানোই হয়নি। এমনকী, যে অচেনা নম্বর থেকে পরের কলটি এসেছিল সেটিতেও ফোন করে আর লাইন পাওয়া যায়নি।
এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নেওয়া যায় যে, শুধু ওটিপি না দেওয়াই যথেষ্ট নয়। প্রতারকদের নতুন নতুন কৌশল সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে।