‘আমার লক্ষ্মী…,’ ২৪ লাইনের নতুন কবিতা লিখলেন মুখ্যমন্ত্রী

দুর্গাপুজোর সমাপ্তি উপলক্ষে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি কবিতা লিখেছেন। কবিতার নাম “আমার লক্ষ্মী”। ২৪ লাইনের এই কবিতায় নারীর ক্ষমতায়ন ও সমতা বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গি ফুটে উঠেছে।
আমার লক্ষ্মী
আমার লক্ষ্মী আজকের দিনে সবারে করে আহ্বান
আমার লক্ষ্মী ক্লান্তি ভুলে গায় জীবনের জয়গান
আমার লক্ষ্মী গ্রাম-গঞ্জে মাটির ঘরে আলো
আমার লক্ষ্মী মুড়ি-পেঁয়াজে শান্তির দূত ভালো
আমার লক্ষ্মী বিদ্যালয়ে গায় সরস্বতীর সুর
আমার লক্ষ্মী গান-বাজনায় জয় করে দূর সুদূর
আমার লক্ষ্মী চন্দ্র-সূর্য মলিন শাড়ির বাহারে
আমার লক্ষ্মীর গায়ে মাটির ধুলো দেখলে মনে হয় – ‘আহারে’
আমার লক্ষ্মী প্রতিবাদ জানায়, কণ্ঠে তার আগুন
আমার লক্ষ্মী দেশ জয় করে, সবারে বলে – জাগুন
আমার লক্ষ্মী দেশ-বিদেশ, দুর্গমকে করে জয়
আমার লক্ষ্মী প্লেনও চালায়, নির্ভয়-দুর্জয়
আমার লক্ষ্মীকে করি কুর্নিশ, অন্ধকারেও সে জোছনা
আমার লক্ষ্মী সবার ঘরে, বিভেদ-বৈষম্য মানে না
আমার লক্ষ্মী – লক্ষ্মীর ভাণ্ডার সবারে দেন সুমতি
আমার লক্ষ্মী – লক্ষ্মী মায়ের সর্বত্র আবাধ গতি
আমার লক্ষ্মী ঘরে ঘরে জ্বেলেছেন আলো
আমার লক্ষ্মীরা ভালো থাকুক, হোক বিশ্ববাংলার ভালো
আমার লক্ষ্মী মা-মাটি-মানুষ, ভয়কে করেনা ভয়
ওরা দুর্জয়, ওরা দুর্গম, ওরা দুরন্তর বরাভয়
আমার লক্ষ্মী ডানা মেলে কখনো হয় পক্ষী
ওরাই মোদের পাহারাদার, ওরাই মোদের রক্ষী
আমার লক্ষ্মী চন্দ্র-সূর্য, আকাশে জ্বলে তারা
আমার লক্ষ্মী ধন্য ধান্যে, নবান্নে দিয়ে ভরা
কবিতায় মুখ্যমন্ত্রী লক্ষ্মীকে একজন সাধারণ বাঙালি নারী হিসেবে কল্পনা করেছেন। তিনি একজন গ্রাম্য নারী, যিনি ক্লান্তি ভুলে জীবনের জয়গান গায়। তিনি একজন কর্মজীবী নারী, যিনি স্কুলে শিক্ষকতা করেন এবং গান গেয়ে সারা বিশ্বকে মুগ্ধ করেন। তিনি একজন প্রতিবাদী নারী, যিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। তিনি একজন দেশপ্রেমিক নারী, যিনি দেশের জন্য কাজ করেন।
কবিতায় মুখ্যমন্ত্রী লক্ষ্মীকে একজন অপ্রতিরোধ্য শক্তি হিসেবেও তুলে ধরেছেন। তিনি একজন উচ্চাকাঙ্ক্ষী নারী, যিনি দেশ-বিদেশ জয় করেন। তিনি একজন নিরস্ত্র নারী, যিনি অস্ত্রের সাহায্য ছাড়াই জয়লাভ করেন। তিনি একজন আশার আলো, যিনি অন্ধকারকে দূর করে।
কবিতায় মুখ্যমন্ত্রী লক্ষ্মীকে একজন মা, মাটি ও মানুষের নারী হিসেবেও কল্পনা করেছেন। তিনি একজন শক্তিশালী নারী, যিনি ভয়কে ভয় পান না। তিনি একজন অজেয় নারী, যিনি সব বাধা অতিক্রম করেন। তিনি একজন রক্ষী, যিনি আমাদের রক্ষা করেন।
মুখ্যমন্ত্রীর এই কবিতা নারীবাদী বার্তা বহন করে। এটি নারীর ক্ষমতায়ন ও সমতার জন্য একটি প্রেরণা। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে নারীরাও পুরুষের মতোই সক্ষম এবং তারাও সব ক্ষেত্রে সফল হতে পারে।