পুরুষদের প্রথম গর্ভনিরোধক ইঞ্জেকশন আসছে শিগ্রই, ICMR-র ট্রায়ালে মিললো তেমনই ইঙ্গিত

অচিরেই ভারতে পুরুষদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী গর্ভনিরোধক ইঞ্জেকশনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ভারতীয় বিজ্ঞানীদের আবিষ্কৃত এই ইঞ্জেকশনের কার্যকারিতা প্রায় ৯৯.২% এবং এটি অন্তত এক দশক কার্যকর থাকবে।
ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চের (আইসিএমআর) একটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে এই ইঞ্জেকশনের সাফল্য দেখা গেছে। ট্রায়ালে দেখা গেছে, ৯৯.২% স্বেচ্ছাসেবকেরই কোনও বিরূপ প্রতিক্রিয়া হয়নি এবং তাঁদের স্ত্রী-রাও কেউ গর্ভধারণ করেননি।
এই ইঞ্জেকশনটি অণ্ডকোষের পাশে শুক্রাণুবাহী নালিকায় লোকাল অ্যানাস্থেশিয়া প্রয়োগ করার পর দেওয়া হয়। ইঞ্জেকশনে ‘স্টাইরিন ম্যালিক অ্যানহাইড্রেট’ (এসএমএ) নামে একটি পলিমারিক ওষুধ থাকে, যেটি বীর্যবাহী নালিকার মধ্যে থাকা শুক্রাণুর লেজের অংশটি কেটে দেয়। ফলে শুক্রাণু আর চলমান থাকে না। একবার ইঞ্জেকশনটি নিলে ১০-১৩ বছর শুক্রাণু নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে।
বিশেষজ্ঞরা আশার আলো দেখছেন
এই ইঞ্জেকশনের সাফল্যকে বিশেষজ্ঞরা আশার আলো হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, এই ইঞ্জেকশন পুরুষদের জন্য গর্ভনিরোধের ক্ষেত্রে একটি নতুন বিকল্প তৈরি করবে।
প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ বাসব মুখোপাধ্যায় বলেন, “পুরুষদের গর্ভনিরোধক ইঞ্জেকশন মানুষের নাগালে এলে নতুন বিকল্প তৈরি হবে। মহিলারা গর্ভনিরোধক ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনেক এগিয়ে। এই ইঞ্জেকশনে কন্ডোম ও ভ্যাসেক্টোমি এড়িয়েও পুরুষরা গর্ভনিরোধকের আশ্রয় নিতে পারবেন।”
বন্ধ্যত্ব রোগ বিশেষজ্ঞ সুজয় দাশগুপ্ত বলেন, “স্তন ক্যান্সার, হার্টের অসুখ, বাড়াবাড়ি রকমের ডায়াবিটিস কিংবা লিভারের অসুখ থাকলে মহিলাদের গর্ভনিরোধক বড়ি খাওয়া নিষেধ। এই অবস্থায় তাঁর পুরুষ সঙ্গী নতুন বিকল্প পাবেন জন্ম নিয়ন্ত্রণের জন্য।”
ইঞ্জেকশনটি এখনও বাজারে আসেনি
এই ইঞ্জেকশনটি এখনও বাজারে আসেনি। আইসিএমআর ইঞ্জেকশনটির আরও ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের কাজ করছে। ট্রায়ালের ফল ইতিবাচক হলে ইঞ্জেকশনটি বাজারে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
পুরুষদের জন্য একটি নতুন দিগন্ত
পুরুষদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী গর্ভনিরোধক ইঞ্জেকশনের সম্ভাবনা একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। এই ইঞ্জেকশন পুরুষদের গর্ভনিরোধের ক্ষেত্রে একটি স্বাধীন বিকল্প তৈরি করবে।